ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্ট্রোক করেন সেলিনা, লাশ দেখতে আসেননি স্বামী

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১২, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্ট্রোক করেন সেলিনা, লাশ দেখতে আসেননি স্বামী
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে স্ট্রোক করেন সেলিনা

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন শুক্রবার দুপুরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেয়া তার স্ট্যাটাস নিয়ে সিলেটের সর্বত্র ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে সেই তিন ব্যক্তিকে নিয়ে, যাদেরকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে মনের কষ্টের কথা লিখে দুশ্চিন্তা আর হতাশাগ্রস্ত হয়ে মারা যান তিনি। মারা যাওয়ার আগে তার ও মেয়ের যে কোনো পরিণতির জন্য তিনজনকে দায়ী করে স্ট্যাটাস দিয়ে যান সেলিনা।

অপরদিকে মৃত্যুর দুদিনেও স্ত্রীর লাশ দেখতে আসেননি স্বামী ইয়াসির ইয়ামিন। এ নিয়েও চলছে নানা গুঞ্জন। তার শেষ ফেসবুকে স্ট্যাটাসের বিষয়ে পুলিশ-গোয়েন্দারা খোঁজখবর নিচ্ছেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি সাফায়েত হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনজনকে দায়ী করা হয়েছে। সব তথ্য তার মেয়ের কাছে রয়েছে বলেও ফেসবুকে লিখে গেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মানসিক অবস্থা ভালো নয় বলে তার সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয়নি।

পুলিশের অপর একটি সূত্রের সন্দেহ, সেলিনার দায়ী করা তিনজনের মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, এক প্রকৌশলীসহ তিনজন হতে পারেন। বিষয়টি ধামাচাপার আড়ালে তোড়জোড় চলছে। সেলিনা ইয়াসমিনের মেয়ে সেঁজুতি মুখ খুললেই সব খোলাসা হয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ে সেঁজুতির নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন সেলিনার স্বজনরা।

শনিবার সেলিনার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সেলিনার চাচাতো ভাই ফয়জুল ইসলাম মুহিত বলেন, ভাগ্নির সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তার মানসিক অবস্থা ভালো নয়। অবস্থা একটু স্বাভাবিক হলেই আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়াও ভাগ্নির কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টের নিরাপত্তা, সংরক্ষণের ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, সেলিনার সঙ্গে স্বামীর পরিবারের বনিবনা নেই জানি; তবে ডিভোর্সের ব্যাপারটি জানা নেই। মারা যাওয়ার পর মরদেহ দেখতে না এলেও সেলিনার শাশুড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ এসেছেন বলে জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!