অতৃপ্ত মহরম আলী, প্রাণে বাঁচতে পালালো নববধূ ফরিদা
যৌতুকের এক লাখ টাকার জন্য বিয়ের তিন মাসের মাথায় বাবার বাড়িতে ফিরে আসলো ফরিদা আক্তার। ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার ১নং সৈয়দপুরে।
চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা স্ত্রী মামলা সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ১৫ এপ্রিল মোহাম্মদ জামাল আহম্মদের মেয়ে মোসাম্মৎ ফরিদা আক্তারের সঙ্গে আনোয়ার হোসেনের ছেলে মহরম আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের একমাসের মাথায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অমানষিক নির্যাতন শুরু করে মহরম।
ফরিদা আক্তার বলেন, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। এতো টাকা দেয়া আমার বাবার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। এ কথা বললে তারা আরো বেশী নির্যাতন করতে থাকে। ৮ জুলাই রাতে স্বামী মারধর করার সময় মাটিতে ফেলে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে বলতে থাকে, 'কাল সকালে একলাখ টাকা এনে দিবি, না হলে গলা চেপে মেরে ফেলবো আর আনতে না পারলে আমার ঘরে আসার দরকার নেই'।
এসময় প্রাণে বাঁচতে সকালে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিবে বলে নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়। পরে সারারাত তাকে রুমে আটকে রাখা হয়। পরদিন সকালে ফরিদাকে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেয় স্বামী শাশুড়ি ও দুই দেবর।
এ ঘটনার পর ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে স্বামী মহরম আলী আগাম জামিন নেয়। এরপর থেকে সে মামলা তুলে নিতে মোবাইল ফোনে হুমকি দিতে থাকে।
এ বিষয়ে ফরিদা আক্তারের মা শাহানারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের স্বামী অন্ধ। আমার কোনো ছেলে নেই। তিনটি মেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। মেঝো মেয়ে ঝিয়ের কাজ করে। আমিও ভাটিয়ারীতে একটি লোহার স্ক্র্যাপের দোকানে দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। যেদিন কাজ হয় না সেদিন ঘরে রান্নাও হয়না। সপ্তাহে দুই এক দিন না খেয়ে কাটাতে হয়। এমন দুরবস্থার আমি কিভাবে একলাখ টাকা দেবো মেয়ের জামাইকে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে ফরিদার স্বামী মহরম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।