ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

আকবরকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ, সেই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবি

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:০৮, ১০ নভেম্বর ২০২০
আকবরকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ, সেই পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তি দাবি
রায়হানের মা সালমা বেগম

রায়হান হত্যার ২৮ দিনের মাথায় প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেফতারের পর ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ভিডিওতে আকবরকে বলতে শোনা যায়- ‘আমাকে সিনিয়র অফিসার বলছিল, তুমি আপাতত পালাইয়া যাও। পরে আইসো। দুই মাস পরে মোটামুটি সব ঠান্ডা হয়ে যাবে।’

বিষয়টি নিহত রায়হান আহমদের মাসহ পরিবারের সদস্যদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, আকবর পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমরা বলে আসছি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সহযোগিতায় সে পালিয়েছে। এ জন্যই আকবরকে গ্রেফতার করা হয়নি। আকবর গ্রেফতার হওয়ার পর এখন প্রমাণিত হলো আমাদের অভিযোগ সঠিক ছিল।

তিনি বলেন, আমি চাই খুনিকে পালাতে সহায়তাকারী ওই সিনিয়র অফিসারকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তি দেয়া হোক।

কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট এসপির কার্যালয়ে নিয়ে আসার পর সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘সিনিয়র অফিসারের’ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, আকবর যেসব জায়গায় পালিয়ে ছিল বলে জানা গেছে, সেখানে যে/যারাই তাদের সহযোগিতা করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশের কেউ যদি সহযোগিতা করে থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়ে এসপি বলেন, এটা হবে দুই প্রক্রিয়ায়। একটি হচ্ছে মামলার তদন্তের মাধ্যমে। পিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে। তদন্তে তারা কারো সম্পৃক্ততা পেলে তাকে আইনের আওতায় আনবে। অথবা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) স্যার যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন, ওই তদন্ত কমিটি যদি রায়হানের পালানোর সঙ্গে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পায় তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ১১ অক্টোবর সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদ। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য রাতভর নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।

এ ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান শেষে ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। ১২ অক্টোবর গভীর রাতে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর পরদিন পালিয়ে যান সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবর হোসেন ভূইয়া।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!