সবার প্রিয় ‘ডাক্তার আপা’ ছিলেন হতাশাগ্রস্ত
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সুলতানা পারভীন হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। সবার কাছে ‘ডাক্তার আপা’ হিসেবে পরিচিত এ চিকিৎসক হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করছেন জামালপুরের এএসপি সীমা রাণী বিশ্বাস। সোমবার রাতে তিনি এ তথ্য জানান।
এএসপি সীমা রাণী বিশ্বাস জানান, হাসপাতাল কোয়ার্টারে ডা. সুলতানা পারভীনের কক্ষ থেকে একটি চিঠি ও ডায়েরি পাওয়া গেছে। ডায়েরিতে প্রেম, বিয়ে, কলহ ও বিচ্ছেদ নিয়ে অনেক কথা লেখা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। নিজের শরীরে পাঁচটি প্যাথেডিন ইনজেকশন পুশ করেছেন এ চিকিৎসক। তার বালিশের নিচে পাঁচটি অ্যাম্পুল ও একটি সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে।
তিনি আরো জানান, ডা. সুলতানার ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী- প্রায় চার বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। স্বামী সাব্বির ছিলেন বুয়েটের ছাত্র। তার বাড়ি খুলনায়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে কলহ শুরু হয়। এরপর সাব্বির কানাডা চলে যান। সেখান থেকেই ডা. সুলতানাকে তালাক দেন তিনি। সম্প্রতি দেশে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাব্বির। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি তিনি।
এএসপি সীমা জানান, ডা. সুলতানা পারভীনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলছে।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ডা. সুলতানা পারভীন গাইনি বিভাগের সার্জন ছিলেন। সবার কাছে তিনি ‘ডাক্তার আপা’ নামে পরিচিত। মাত্র দেড় বছরেই সহকর্মী ও রোগীদের মন জয় করে নিয়েছিলেন এ চিকিৎসক। তার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।
মেলান্দহ থানার ওসি রেজাউল করিম খান জানান, রোববার বিকেলে হাসপাতাল কোয়ার্টারের নিজ কক্ষে ডা. সুলতানা পারভীনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই রাতেই অপমৃত্যু মামলা হয়।