শিমক্ষেত খেলো ছাগল, আটকানোয় যৌন হয়রানির মামলা
শিমক্ষেত খেলো ছাগল, সেই ছাগল আটক করে যৌন হয়রানির মামলায় গ্রেফতার হলেন কাউসার আলী নামে এক নিরীহ কৃষকক।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহী নগরীর কর্ণহার থানায়।
কৃষক কাউসার আলীকে শায়েস্তা করতেই মামলাটি করা হয়েছে। এ মামলার পেছনে থানা পুলিশের ওসি আনোয়ার আলী তুহিন ও এসআই শামিম রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার সকালে যৌন হয়রানির মিথ্যা মামলায় ওই কৃষককে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই দিনই তাকে জামিন দেয় আদালত।
মামলায় গ্রেফতার হওয়া কাউসার আলী রাজশাহী নগর কর্ণহার থানার তেঁতুলিয়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে। দুই সন্তানের বাবা কাউসার আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমিতে কৃষিকাজ করে আসছেন।
মামলাটির বাদী ওই গ্রামের কুড়হান। পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন তিনি।
কাউসার আলীর পরিবারের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই কাউসার আলীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে। দুই শিশুসন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কাউসার আলী।
কাউসার আলী বলেন, গত ১২ আগস্ট একই গ্রামের কুড়হান নামে এক ব্যক্তির ছাগল তার শিমক্ষেত খেয়ে ফেলে। টের পেয়ে তার ১০ বছর বয়সী ছেলে আরাফাত রহমান ওই ছাগল আটকায়। খোঁয়াড়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ছাগলটি বাড়িতে নিয়ে এসে আটকে রাখে আরাফাত। ক্ষেত থেকে ফিরে তিনি আর খোঁয়াড়ে দিতে দেননি।
ছাগলটি মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ নিয়ে বিকেলে তিনি রিকশা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান। গভীর রাতে বাড়ি ফিরে দেখেন ছাগল বাড়িতেই।
স্বজনেরা জানান, ছাগলটি নিতে আসেনি মালিক। পরদিন সকালে মালিক কুড়হানকে ডেকে তিনি ছাগল নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। ওই সময় ছাগল ফিরিয়ে না নিয়ে উল্টো বিহীত করার হুমকি দেন কুড়হান।
সকাল ১০টায় কর্ণহার থানা পুলিশ তার বাড়িতে আসে। ওই সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে ছাগলটি মালিককে বুঝিয়ে দেন এসআই শামিম। এ সময় তিনি বিকেল ৫টায় কাউসারকে থানায় দেখা করার কথা বলেন। পুলিশের বেঁধে দেয়া সময়মতো তিনি থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে আটকে দেয় পুলিশ।
এরপর থানায় তার বিরুদ্ধে সালিস বসানো হয়। তার বিরুদ্ধে কুড়হানের পরিবারের নারী সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তার পরও উল্টো থানার খরচ হিসেবে তার কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে পুলিশ। কিন্তু তিনি টাকা দিতে রাজি হননি। এ কারণেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে এসআই শামিম জানান, এ নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সব কিছু হয়েছে থানার ওসির নির্দেশেই। এ নিয়ে তিনি মন্তব্য করতেও চান না।
ওসি আনোয়ার আলী তুহিনও এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে এসআই শামিমের ফোন থেকে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ওসি।
নগর পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা জোনের ডিসি আরেফিন জুয়েল কৃষকের এ অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।