জমে উঠেছে কামারপল্লী
কয়েকদিন পরই কোরবানির ঈদ। এ উপলক্ষে জমে উঠেছে সারা বছর ঝিমিয়ে থাকা ফেনীর কামার পল্লী। টুং-টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দা-ছুরি-বটি বানাতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছে কয়েকশ কামার।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের তাকিয়া বাজার, রেলগেট এলাকা, কাসেমপুর, পাঁচগাছিয়া, সদর উপজেলার লস্করহাট, দাগনভূঞার সিলোনিয়া, সোনাগাজী শহরে জমে উঠেছে প্রতিটি কামারশালা। লোহা পুড়িয়ে ধারালো অস্ত্র তৈরির কাজ চলছে বিরতিহীন।
জানা গেছে, মানভেদে স্প্রিং লোহা ৩০০-৫০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৫০-২০০ টাকা, দা ২৫০-৩০০ টাকা, বটি ৩৫০-৪০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কামাররা জানান, আগে বিনামূল্যে কাঠকয়লা পাওয়া যেত, এখন বাড়তি দামেও পর্যাপ্ত কয়লা মিলছে না। প্রতি বস্তা কাঠকয়লা ২৫০-৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে দা-ছুরি-বটির দাম তুলনামূলক বেশি।
ফেনীর তাকিয়া বাজারের কামারশালার মালিক তপন কর্মকার জানান, কামারদের কাজের নির্দিষ্ট কোনো মজুরি নেই, নেই পণ্যের মূল্যতালিকাও। সারা বছর জেলার কয়েকশ কামার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করে। এ কারণে কোরবানির ঈদ এলে কর্মচারীদের বেশি মজুরি দিতে হয়, বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয় পণ্য।
সোনাগাজীর হারাধন কর্মকার জানান, তিনি ৫০ বছর এ কাজ করছেন। দা-ছুরি বানিয়ে ও বিক্রি করে তার সংসার চলে। তার পরিবারের সদস্যরাও একই কাজ করেন। এবারের কোরবানির ঈদে পর্যাপ্ত কাজ করতে পারলে অন্তত এক লাখ টাকা আয় হবে বলেও জানান তিনি।