ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ করোনাভাইরাস ]

ঘণ্টায় ১৬ বার মুখে হাত দেয়ায় বাড়ছে করোনা: গবেষণার তথ্য

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি
প্রকাশিত: ১৩:২৫, ২০ মার্চ ২০২০
ঘণ্টায় ১৬ বার মুখে হাত দেয়ায় বাড়ছে করোনা: গবেষণার তথ্য
ছবি: প্রতীকী

করোনাভাইরাস বর্তমানে মহামারি আকারে ধারণ করেছে বিশ্বজুড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শুরু থেকেই বলে আসছে, এই ভাইরাস যাতে না ছড়ায় এজন্য নিয়মিত হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক। সেইসঙ্গে মুখে, চোখে ও নাকে স্পর্শ করা যাবে। বিশেষ প্রয়োজনে টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করলেও তা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।

তবে আপনি জানেন কি? প্রতি ঘণ্টায় আমি বা আপনি ঠিক কতবার হাত দ্বারা মুখ স্পর্শ করি? জানলে আঁতকে উঠবেন! ঘণ্টা প্রতি ১৬ বার। জ্বি হ্যাঁ, অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলেও সত্যিই, অজান্তেই আমরা ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৬ বার হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করি। তাহলে ভেবে দেখুন, করোনাভাইরাস কত সহজেই হাত থেকে মুখে এরপর নাক দিয়ে গলায় গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়। এরপর ফুসফুসে চলে গেলে তো বাঁচার প্রদীপটি নিভে যায়!

সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য। একবার ভেবে দেখুন, আপনার নাক, মুখ কিংবা চোখ চুলকাচ্ছে আপনি ততক্ষণাৎই কিন্তু হাতের সাহায্যে চুলকাবেন। আর তখনই ওত পেতে থাকা করোনা ভাইরাস আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। শুধু করোনা নয় বরং যে কোনো ধরনের ভাইরাসই হাত থেকে মুখে অতঃপর সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

এজন্য সচেতন থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অপরিষ্কার হাতে মুখ স্পর্শ করা না হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র দুই উপায়ে ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর তথ্যানুসারে, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের শরীরে খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে। 

হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ফোঁটা ফোঁটা হিসেবে আক্রান্তের শরীরে থেকে অন্যের শরীরে গিয়ে পড়ে ভাইরাসটি। ভারী হওয়ায় ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না। ধরুন, আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি একটি টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাঁচি দিলেন, অতঃপর ভাইরাসটি কিন্তু গিয়ে পড়ল টেবিলের উপর। এবার অন্য ব্যক্তি যখন ওই টেবিলের সংস্পর্শে আসে ততক্ষণাৎ ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করবে।

এবার ওই ব্যক্তি যদি তার হাত দিয়ে মুখ, চোখ কিংবা নাক স্পর্শ করে তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যাবেন। মূলত এভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড-১৯। ২০০৮ সালে ১০ জন অফিসকর্মীকে নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। তিন ঘণ্টা ধরে গবেষকরা তাদেরকে নজরে রেখেছিলেন। অতঃপর তারা দেখলেন, গড়ে প্রায় প্রত্যেকেই ১৬ বার অজান্তে নিজের মুখ স্পর্শ করেছেন। 

২০১৫ সালেও এমন একটি গবেষণা করা হয়েছিল ২৬ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপর। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, গড়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ২৬ বার তাদের মুখে হাত দিয়েছে। এতে করে যে কোনো ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 

হাত পরিষ্কারের বিকল্প নেই

সিডিসির তথ্যানুসারে, প্রত্যেকেরই উচিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ার। আর তা হতে হবে সঠিক উপায়ে। অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। অবশ্যই হাত ধোয়ার সময় পাঁচটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে- পানি দিয়ে প্রথমে হাত ভিজিয়ে নিতে হবে, এরপর সাবান মেখে দুই হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে, এবার হাত ধুয়ে, মুছে নিতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার হাতে পরা আংটি, চুড়ি কিংবা ব্রেসলেট ও ঘড়িও কিন্তু জীবণুমুক্ত নয়।

নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন হন্টলি হাসপাতালের ক্লিনিকেল সাইকোলোজিস্ট জাচারি সিকোরা বলেন, মুখে যাতে বেশিবার হাত চলে না যায় এজন্য হাত দুটি ব্যস্ত রাখুন। টিভি দেখার সময় বা অবসর সময়ে হাতে কিছু রাখুন। এতে করে হাত মুখে যাবে না। সবসময় খেয়াল রাখুন আপনার হাত দুটি পরিষ্কার আছে কিনা, এরপর মুখে হাত দিন। যদি হাত ধোয়ার উপায় না থাকে তবে সবসময় হাতের কাছে স্যানিটাইজার রাখুন এবং তা ব্যবহার করুন।

তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে গ্লাভস ব্যবহার করা সর্বোত্তম। প্রতিবার ব্যবহারের পর অবশ্য সেগুলো ফেলে দেয়াটাও বাধ্যতামূলক। এতে করে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। করোনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায়ই হলো হাত দ্বারা মুখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূত্র: হেলথলাইন

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!