ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা পেলেই শাস্তি: ধানমন্ডিতে প্রতিমন্ত্রী

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫২, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা পেলেই শাস্তি: ধানমন্ডিতে প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং ডেঙ্গুবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে বের হন প্রতিমন্ত্রী।

Advertisement

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মীর শাহে আলম ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল এবং আশপাশের পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ নেন।

এর আগে রাজধানীর সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মীর শাহে আলম বলেন, যেকোনো মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট সময়ে অভিযান চালালেই হবে না; সারা বছর নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্য শুধু মশা নিধন নয়; পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং নাগরিকদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলা।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনার আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নির্মাণাধীন ভবনকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রী, ড্রাম, বালতি, গর্তসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সচেতন ও সতর্ক করার পরও কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং প্রয়োজনে কারাদণ্ডের মতো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শাস্তির পরিবর্তে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!