* আছে মাসিক/সাপ্তাহিক চাঁদার ব্যবস্থা
* মোটা অংকের টাকায় ছাড় পায় বাস-লেগুনা
* যাচাই হয় না লাইসেন্স-ফিটনেস
* লোক দেখানো রেকারিং-ডাম্পিং শুধু সিএনজি-অটো-ট্রাকের ক্ষেত্রে
* শুধু টিআইকে দেওয়া হয় মাসে ৮০ হাজার টাকা
* রেকারিং-ডাম্পিং লোক দেখানো, যাচাই হয় না লাইসেন্স-ফিটনেস
সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরা ট্রাফিক বক্সের সামনে প্রতিদিন সারিবদ্ধভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, সিএনজি এবং পণ্য বহনকারী ট্রাক থেকে রেকার ও ডাম্পিং বিল আদায় করছে ট্রাফিক পুলিশ। আর যাদের মানথলি করা রয়েছে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে আবারো দেদারসে সড়কে চলছে এসব অবৈধ গাড়ি। এখানে লোক দেখানো ডাম্পিং ও রেকার বিল শুধু সিএনজি, অটোরিকশা এবং ট্রাকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাস, লেগুনার বেলায় কোনো ডাম্পিং বা রেকার জরিমানা কিছুই হচ্ছে না। কারণ এসব পরিবহনের মালিকরা প্রতি সপ্তাহে সময়মতো চাঁদা পরিশোধ করছেন।
.png)
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে আছিম, স্বাধীন, আসমানী, রমজান, রাজধানী, আলিফ, ডেমরা এবং আশিয়ান পরিবহন নামে এসব লোকাল গণপরিবহন প্রতিদিন ডেমরা থেকে এবং ডেমরা হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন রোডে চলাচল করে। এছাড়া স্টাফ কোয়ার্টার থেকে প্রায় শতাধিক লেগুনা এবং অবৈধ সিএনজি চলাচল করে রাজধানী অথবা রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন রুটে।
বাস থেকে মাসে ১২ হাজার, লেগুনা প্রতি ১ হাজার
জানা গেছে, এসব বাস কোম্পানি থেকে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা করে আদায় করে ডেমরা কোনাপাড়া ট্রাফিক পুলিশ। অবৈধ লেগুনা থেকে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা ট্রাফিক পুলিশকে দিতে হয়। এসব লেগুনার চালকদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এছাড়া এসব গাড়ির ফিটনেসও নেই। এছাড়া আন্তঃজেলা ট্রাক থেকে প্রতি মাসে আদায় করা হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং সড়কের উপরে গাড়ি পার্কিং করে রাখার জন্য প্রতিটি গাড়ি থেকে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করে নেয়া হয়।
শুধু টিআই পান মাসে ৮০ হাজার
আরো জানা গেছে, ট্রাফিক ইনস্পেক্টরের (টিআই) জন্য রয়েছে ঐ ৮টি বাস কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা। এটা একান্তই টিআইয়ের।
এসব ঘুষ বাণিজ্য জায়েজ করতে ট্রাফিক থেকে ব্যাপক ছাড় দিতে হচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রাজধানী ঘুরে বেড়ানো পরিবহনগুলোর ফিটনেস, চালকের বৈধ লাইসেন্স ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করছে না সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ।
টাকা পেলেই ছেড়ে দেয় পুলিশ
গুলিস্থানের লেগুনা ড্রাইভার মো. রউফ হোসেন বলেন, লাইসেন্স নেই সেজন্য পুলিশকে প্রতিদিন ৪০০ টাকা দেই।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক কয়েকজন চালক বলেন, আমাদের বয়স কম বলে ড্রাইর্ভিং লাইসেন্স করা যায় না। তবে পুলিশ ধরলে টাকা দিয়ে ছুটে যাই। আর মালিক ও নেতারা মাসে মাসে আমাদের কাছ থেকে আলাদা টাকা নেয় সড়কে চলাচলের জন্য। টাকা না দিলে পুলিশ কি রাস্তায় গাড়ি চালাইতে দেবে?
ঘুষ বাণিজ্য ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপের আশ্বাস
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্টাফ কোয়ার্টারে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। প্রতিটি যানবাহনে মাদকাসক্ত চালকের হাতে মালিকরা তাদের গাড়ি তুলে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ ও সমাজের প্রভাবশালী মহলসহ আমরা সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
ট্রাফিক বিভাগের চাঁদাবাজির বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মৃদুল কুমার পাল বলেন, ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে সড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা, ডাম্পিং ও রেকারিং করছি। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পরিবহনের নেতারা, জনপ্রতিনিধি, থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক বিভাগসহ সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করছে।