ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

ক্রিকেটার স্বর্ণার আইফোন-ডলার উদ্ধার, হোতা আল-আমিন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:৩২, ৩১ জানুয়ারি ২০২৪
ক্রিকেটার স্বর্ণার আইফোন-ডলার উদ্ধার, হোতা আল-আমিন আটক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তারের বাসায় চুরির ঘটনায় জড়িত আল-আমিন দেওয়ানকে দিনাজপুর থেকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় চুরি হওয়া আইফোনসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর তেজকুনিপাড়া খেলাঘর মাঠে অনুশীলনকালে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তারের ব্যবহৃত দুটি আইফোন চুরি হয়। একইদিনে তার বাসা থেকে সাড়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার, ব্যাংকের চেক বই ও ভিসা কার্ডসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্বর্ণা আক্তার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

Advertisement

ব্যাপক আলোচিত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে নজরদারি বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-১৩ ও র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল দিনাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চুরির সঙ্গে জড়িত আল-আমিন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে। এ সময় উদ্ধার করা হয় ৪টি আইফোনসহ ৫টি মোবাইল, প্রাইম ব্যাংকের একটি চেক বইয়ের পাতা, একটি মাস্টার কার্ড, বেশকিছু বৈদেশিক মুদ্রা, ৩টি হাত ঘড়ি, ৪টি চেইন, একটি নোজপিন, একটি ব্রেসলেট, দুটি আংটি ও একটি হ্যান্ড ব্যাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে আল-আমিন।

কমান্ডার মঈন বলেন, আল আমিন নিজেকে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অন্য এক নারী ক্রিকেটার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত হয়। পরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে। একপর্যায়ে পরিচয়ের ১৭ দিনের মাথায় গত ১২ জানুয়ারি আল আমিন ঐ নারী ক্রিকেটারকে বিয়ে করেন। ঐ নারী ক্রিকেটারসহ ৪ জন গত স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে তিন বছর ধরে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিল। বিয়ের সূত্র ধরে আল আমিনও কৌশলে স্বর্ণাদের ফ্ল্যাটে স্ত্রীর সঙ্গে আলাদা একটি রুমে বসবাস করতে থাকে। এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ব্যবসায়িকসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কৌশলে বিভিন্ন সময় পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

তিনি বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বর্ণা ও তার ৩ জন রুমমেটসহ সতীর্থ খেলোয়াড়দের নিয়ে রাজধানীর তেজকুনিপাড়া খেলাঘর মাঠে অনুশীলনে যান। এ সময় আল-আমিন বাসায় অবস্থান করছিল। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বর্ণার রুমের ওয়ারড্রবের তালা ভেঙে ডলার, ১টি চেক বই, ভিসা কার্ড, অন্য নারী ক্রিকেটারের ব্যাগ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা ও তাদের ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে তেজকুনিপাড়া খেলাঘর মাঠে আসে। এসময় তাদের অনুশীলনের ভিডিও করার কথা বলে অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তারের ব্যবহৃত আইফোন দুটি ব্যাগ থেকে নিয়ে কিছুক্ষণ ছবি তুলে কৌশলে মাঠ থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্বর্ণা আক্তারের ব্যবহৃত একটি আইফোন রাজধানীর পুরাতন মালামাল বিক্রির মার্কেটে ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করে আল আমিন। এরপর বাসে করে রংপুর গিয়ে রাতে হোটেলে থাকে এবং পরদিন দিনাজপুর গিয়ে আরেকটি হোটেলে ওঠে।

র‍্যাবের এ মুখপাত্র বলেন, আল-আমিন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে কাপড়ের দোকানে চাকরি করতো। ২০১৬/২০১৭ সাল থেকে নারীদের সঙ্গে প্রতারণাসহ অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করতে থাকে। প্রতারণার পর আত্মগোপনে চলে যেতো। সে ২০২২ সালে প্রথম বিয়ে করে। এর আগে, বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে তার প্রতারণার বিষয়ে প্রথম স্ত্রী জানতে পারলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। আল-আমিনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চাঁদপুরের বিভিন্ন থানায় ৪টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!