ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ রাজধানী ]

নিজের কিডনি হারিয়ে গড়েন সিন্ডিকেট, ৪ বছরে বিক্রি অর্ধশতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫:১২, ২০ জুলাই ২০২৩
নিজের কিডনি হারিয়ে গড়েন সিন্ডিকেট, ৪ বছরে বিক্রি অর্ধশতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার জন্য ২০১৯ সালে ভারতে যান আনিছুর রহমান। সেখানে অর্থের বিনিময়ে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করে দেন। ভারতে কিডনি প্রতিস্থাপনের ব্যাপক চাহিদা ও মোটা অংকের অর্থপ্রাপ্তির বিষয়টি দেখতে পান তিনি। এরপর দেশে ফিরে নিজেই কিডনি বেচাকেনার অবৈধ ব্যবসায় নামেন। চার বছর আগে থেকে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কিডনি কেনাবেচা করেছেন তিনি।

ভারতের কিডনি কেনাবেচা সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় দেশে একটি চক্র গড়ে তোলেন আনিছুর। অনলাইনে বিত্তশালী কিডনিরোগী এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে কিডনি ডোনার সংগ্রহ করে বৈধ ও অবৈধভাবে আকাশ বা স্থলপথে ভারতে পাঠাতেন তিনি।

বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে দেশে সক্রিয় অবৈধভাবে কিডনি সিন্ডিকেটের চক্রের মূল হোতা মো. আনিছুর রহমানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার পর করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃত বাকিরা হলেন- মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে রাজিব, সালাউদ্দিন তুহিন, এনামুল হোসেন পারভেজ, সাইফুল ইসলাম। রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা, বনানী ও মহাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে করা চুক্তির এফিডেভিট উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের ফাঁদে প্রলুব্ধ হয়ে সর্বহারা হচ্ছে অসহায় নিম্নআয়ের মানুষ।

জানা গেছে, ভারতে থাকা কিডনি ক্রেতারা ৪৫-৫০ লাখ টাকা খরচ করে একেকটি কিডনি কিনে নেন। অথচ ডোনারদের দেওয়া হয় ৪-৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা ভাগাভাগি হয় দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় দালাল, অসাধু ট্রাভেল এজেন্টসহ অন্য প্রতারকদের মাঝে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পায় বিদেশি কিডনি পাচার সিন্ডিকেট।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ঐ সিন্ডিকেট। কখনো তারা বলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে একটির বেশি কিডনি দরকার নেই, কখনো মিথ্যা আশ্বাস দেয় যে চিকিৎসার খরচ তারা বহন করবে। টাকার লোভে কিডনি হারিয়ে প্রায়ই অক্ষম হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে অসহায় মানুষগুলো।

কিডনি সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ বলেন, সিন্ডিকেটটি চার ভাগ হয়ে কাজ করে। প্রথম গ্রুপ বিদেশে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। মূল হোতা আনিছুর ঢাকা থেকে বিদেশে ডোনার পাঠানোর বিষয় তদারকি করে। তৃতীয় গ্রুপের সদস্য আরিফ ও তুহিন চাহিদা মোতাবেক অসহায় মানুষদের চিহ্নিত ও অর্থের বিনিময়ে কিডনি ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে। পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। চতুর্থ গ্রুপের হোতা ‘সাহেবানা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের’ মালিক সাইফুল ইসলাম ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, দেশের অভ্যন্তরে তারা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বেচাকেনা নিয়ে কাজ করছিল। সিন্ডিকেটটি এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কিডনি নিয়েছে। মূলত এসব সিন্ডিকেট মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার কাজ করে। আমরা নজরদারি করছি, এ কাজে বেশ কিছু সিন্ডিকেট জড়িত বলে ধারণা করছি। সিন্ডিকেটগুলোকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!