রাজধানীর গাবতলী-সায়দাবাদ, সদরঘাটের পাশাপাশি কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের চাপ বাড়তে দেখা গেছে। এমনকি বৃষ্টির বাধাও দমিয়ে রাখতে পারেনি ঘরমুখো মানুষকে।
বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই কমলাপুর রেলস্টেশনে ভিড় করছে মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ভিড়ও।
.png)

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কুড়িগ্রামের বাসিন্দা রাশেদ নিজাম। পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করার জন্য রেলস্টেশনে এসেছেন। ডেইলি বাংলাদেশকে তিনি বলেন, আগেই অনলাইনে টিকিট কেটেছি। কোনো ঝামেলা হয়নি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা আমার কাছে সুন্দর মনে হয়েছে।
সাফায়েত নামে আরেক যাত্রী বলেন, নারী, শিশু ও মালামাল থাকায় বৃষ্টির মধ্যে কমলাপুর পর্যন্ত আসতে খুব কষ্ট হয়েছে। তবে আরামে বাড়ি যেতে পারবো ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের সুমাইয়া ইসলাম সারা বলেন, যানজট এড়াতে ভোরেই রেলস্টেশন চলে এসেছি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরো বাড়ছে।
এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রাত পর্যন্ত যাত্রীদের ভিড় থাকতে পারে।

টিকিটবিহীন যাত্রীদের ক্ষেত্রে এবার কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কোনো যাত্রী বিনাটিকিটে স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করতে পারছেন না। প্রবেশের পথে কয়েকবার চেক করা হচ্ছে। যাত্রীদের সেবা দিতে রেলস্টেশনে আছেন স্কাউট সদস্যরাও।
কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ট্রেনে শতভাগ অনলাইনে টিকিট বিক্রি হয়েছে। সবাই আগেভাগে টিকিট কেটেছেন। যারা টিকিট পাননি তারা স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনছেন। যাত্রীদের বাড়ি ফেরার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ১৪ জুন দেওয়া হয়েছে ২৪ জুনের টিকিট। একইভাবে ১৫ জুন দেওয়া হয় ২৫ জুনের, ১৬ জুন দেওয়া হয় ২৬ জুনের, ১৭ জুন দেওয়া হয় ২৭ জুনের এবং ১৮ জুন দেওয়া হয় ২৮ জুনের অগ্রিম টিকিট। আর ফিরতি অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হয় ২২ জুন থেকে। সেদিন দেওয়া হয়েছে ২ জুলাইয়ের টিকিট। যথাক্রমে ২৩ জুন দেওয়া হয় ৩ জুলাইয়ের, ২৪ জুন দেওয়া হয় ৪ জুলাইয়ের, ২৫ জুন দেওয়া হয় ৫ জুলাইয়ের ও ২৬ জুন দেওয়া হয় ৬ জুলাইয়ের টিকিট দেওয়া হয়েছে।