এক সময় রাজধানীতে পুকুর ও জলাশয় থেকেই অবাধ পানির প্রবাহ পাওয়া যেত। বর্তমানে নগরায়ণের ফলে ঢাকায় পুকুর ও জলাশয় নেই বললেই চলে। আবার যেসব পুকুর ও জলাশয় আছে, তাও সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকে দখল করে নিচ্ছে।
মঙ্গলবার বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হল সংলগ্ন পুকুর ও হাতিরঝিল রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
.png)
ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে দেখা দেয় পানির সংকট। তখন বঙ্গবাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল সংলগ্ন পুকুর ও হাতিরঝিল থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে ওপর থেকে পানি ফেলা হয়। এরপর সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর ও হাতিরঝিলের প্রশংসা করেছেন অনেকে। তারা বলছেন, ঢাকার বুকে এরকম কিছু পুকুর-জলাশয় আছে বলেই বিপদে কাজে লেগেছে। অথচ প্রতিনিয়ত ভূমিদস্যুরা এরকম অনেক পুকুর-জলাশয় দখল করে নিচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ঢাকা মহানগরে ঠিক কতটি পুকুর রয়েছে, বর্তমানে তার সঠিক তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে ২০২০ সালে করা রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি) নামের এক সংস্থার জরিপে ছোট-বড় ২৪১টি পুকুরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার অধিকাংশই ব্যক্তি মালিকানাধীন। সেগুলো ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ অনুযায়ী ব্যক্তি মালিকানাধীন জলাশয়-পুকুর ভরাট করা যাবে না। একই নির্দেশনা দিয়ে উচ্চ আদালতও একটি রায় দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বঙ্গবাজারের ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার তথ্য গণমাধ্যমকে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার।
এর আগে, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কমপক্ষে ৫০ ইউনিট কাজ করে। বঙ্গবাজারের টিনশেড দোতলা মার্কেটটি পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী ও বিজিবির চেষ্টায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ বিষয়ে দুপুর ১টার পরে ব্রিফ করা হবে।