ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ রাজধানী ]

সদরঘাট ফিটফাট হলেও মাঝিদের অবস্থা ‘সদরঘাট’

আহসান জোবায়ের
প্রকাশিত: ১৩:৩৫, ৪ জুলাই ২০২১
সদরঘাট ফিটফাট হলেও মাঝিদের অবস্থা ‘সদরঘাট’
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একসময় দেশের মানুষ বলত, “ওপরে ফিটফাট, মধ্যে সদরঘাট।” লকডাউনে সদরঘাটে‌র মাঝিদের অবস্থা এমনই। ফাঁকা ও ফিটফাট ঘাটে হা‌সিমুখে বসে থাকা প্রত্যেক মা‌ঝিই রুটি-রুজি নিয়ে চিন্তিত। ভাবছেন, দিন শেষে চাল কেনার টাকা থাকবে তো?

সারাদেশে করোনার প্রকোপে নিরুপায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা। সদরঘাটের নিম্ন আয়ের মানুষের পেট মানছে না ক্ষুধার তাড়না। তাই তারা বেরিয়েছে খাবারের সন্ধানে। স্বল্প পরিসরে নৌকা চলাচল করছে বুড়িগঙ্গায়। এক নৌকায় নেয়া হচ্ছে ৩-৪ জন, ওয়াইজঘাট থেকে নদীর ওপারে গেলেই জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা। রিজার্ভ হলে ৩০-৪০টাকা। আগে এক নৌকায় ৫জন করে জনপ্রতি ৫টাকা নেয়া হত। আর রিজার্ভ হলে ১৫-২০ টাকা। এখন দেড়-দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রী পাচ্ছে না মাঝিরা। একজন যাত্রী আসলেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কে আগে নৌকায় তুলবে। যাত্রী কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে মাঝিরা।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে চলছে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন। এসময় সব ধরনে যানবাহন বন্ধ থ‌াকলেও স্বল্প পরিসরে চলছে সদরঘাটের মাঝিদের জীবন বৈঠা।

মাঝিরা জানান, গত দুইদিন থেকে যাত্রী পাচ্ছেন না। নিয়মিত যাত্রী হচ্ছেন দুই পাড়ের ব্যবসায়ীরা। কিন্ত লকডাউনের কারণে দোকান-পাট বন্ধ থাকায় তাদের দেখা নেই। আগে একটা তিন-চার মিনিটের অপেক্ষা করলেই নৌকা ভর্তি হয়ে যেত। এখন আধাঘণ্টা অপেক্ষা করেও যাত্রী পাওয়া যায় না।

সদরঘাটের মাঝি মখলেস মিয়া বলেন, আগে মানুষ ঘুরতে আসতো, এখন তাও আসে না। আমাদের অবস্থা সদরঘাটের মতোই। এভাবে আর সংসার চলে না। ঘাট মাঝিদের টাকা দিয়ে দিনশেষে আমাদের আর টাকা থাকেনা। আমাদের দেখার কেউ নাই।

নদীর ওপার থেকে ফিরতি পথে কথা হয় মাঝি সেকেন্দার বেপারীর সাথে। তিনিও জীবনযাপনে কষ্টের কথা জানান। তিনি বলেন, যাত্রীর চলা-চলতী অনেক কম। আমাদের আয়-বাণিজ্য অনেক কমে গেছে। নৌকা চালাতে গেলে কোস্টগার্ড ধরে। নৌকা বন্ধ কইরা দিতে কয় ও মাস্ক পইরা থাকতে কয়। কিন্তু হেরাতো বন্ধ করতে কইতে আছে, পেটের অভাবে করতে আছি।

লকডাইনে ব্যবসা পাল্টে সদরঘাটে পান-সিগারেট বিক্রি করছেন আব্দুল মজিদ। লকডাউন আসার আগে প্ল্যাটফর্মে পানির বোতল বিক্রি করতেন। লকডাউন আসায় এখন পান সিগারেট বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা ভালোই চলছে। পেটের দায়ে ব্যবসা পাল্টাতে হলো।

সদরঘাটে নৌ পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ চোখের আড়াল হলে কয়েকটা চলাচল করে। পুলিশ এবং কোস্টগার্ড সবসময় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!