রুম্পার মৃত্যুতে উত্তাল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের (স্নাতক) শিক্ষার্থী রুবাইয়া শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শুক্রবার দুপুরে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধেশ্বরী শাখার শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় তারা রুম্পা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত বিচার দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও।
এদিকে সকালে ময়মনসিংহে রুম্পার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। নুসরাত হত্যার মামলার মতো দ্রুত বিচার দাবি করেছে রুম্পার পরিবার।
এর আগে বুধবার রাতে সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় দুই ভবনের মাঝখানের গলি থেকে রুম্পার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়। পরিচয় না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুম্পার স্বজনরা মর্গে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। মরদেহের ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। পুলিশের ধারণা, তাকে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে বৃহস্পতিবার রুম্পার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, মরদেহে আঘাত দেখে মনে হয়েছে ওপর থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাবে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, রুম্পার সপরিবার ২৫৫ শান্তিবাগে থাকতেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড় ছিলেন। তার বাবা রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক। শারমিন দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে তিনি কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। বাসা থেকে নিচে নেমে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও পরা স্যান্ডেল বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে এক জোড়া পুরোনো স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরে আসেননি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে খবর পেয়ে রুম্পার মাসহ স্বজনেরা রমনা থানায় গিয়ে মরদেহের ছবি দেখে তাকে সনাক্ত করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। পরিচয় যখন পাওয়া গেছে, শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।