দ্রুত জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি ছাত্র ইউনিয়নের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সরিয়ে সেখানে শিক্ষক সমিতির কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। একই সঙ্গে ১১তম জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মো. রেজওয়ান সিকদারের সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সরিয়ে সেখানে শিক্ষক সমিতির কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সংকুচিত করার শামিল। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার এ উদ্যোগ আগামী জাকসু নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী নির্বাচনের কোনো তফসিল বা প্রস্তুতি নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র সরিয়ে কার্যালয়টি শিক্ষক সমিতিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা হতাশাজনক।
এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি অর্চি অঙ্কুর ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিয়ান আহমেদ অর্ক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকসুর নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সেখানে নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র ও কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া নেতিবাচক ও হতাশাজনক সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি প্রশাসনকেই করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে গত জাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, তিন দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত ১০ম জাকসু নির্বাচনও প্রশাসনের কাঠামোগত ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার পরিবর্তে বর্তমান প্রশাসন জাকসু ব্যবস্থাকেই অকার্যকর করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ বন্ধ করে আগের অবস্থান বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত ১১তম জাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
দাবি পূরণ না হলে ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।