চবিতে চাকসু ও নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হলে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকস লিমিটেড, চট্টগ্রামের সহযোগিতায় এ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হলের সেমিনার রুমে ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে চিকিৎসকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. রফিকুল ইসলাম।
.png)
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, সচেতনতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হলে সেটিই সবচেয়ে ভালো। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে চিকিৎসকদের আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রীদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ তলা একটি ছাত্রী নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। এতে আবাসনসংকট কিছুটা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ডাইনিংয়ের টিনশেডের কারণে অতিরিক্ত গরমের বিষয়টিও উল্লেখ করে এর সমাধানের আশ্বাস দেন।
জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ‘সচেতনতা থেকে সুস্থতা’। একজন নারী সুস্থ থাকলে পরিবার ও সমাজও সুস্থ থাকে। নারীর স্বাস্থ্যকে গাইনিকোলজি, ডার্মাটোলজি ও মেডিসিনসহ বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জরায়ু, ওভারি বা ঋতুস্রাবের সমস্যাকে লজ্জা বা ভয়ের কারণে গোপন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে ব্রণ, চুল পড়া কিংবা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো সমস্যায়ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা হলে তা গোপন না রেখে চিকিৎসক ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে চাকসু কাজ করছে। লাইব্রেরির সময় বাড়ানো, লাইব্রেরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার দাবি এবং ই-কার বন্ধের পর বিনামূল্যে শাটল ও সার্কুলার বাস চালুর মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করেন তিনি।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরও কয়েকটি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ডিপিপি অনুমোদিত হলে মেডিকেল সেন্টারকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ১০টি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, চাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সহজলভ্য করা, মেডিকেল সেন্টারে নতুন অপারেশন থিয়েটার স্থাপন এবং জলাতঙ্কের টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিগগির অ্যাম্বুলেন্স আনা ও বর্তমান মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
চাকসুর এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাবার ও পানির বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি পুষ্টিজনিত সমস্যাও রয়েছে। এ ধরনের মেডিক্যাল ক্যাম্প তাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তবে ক্যাম্পকে সাময়িক উদ্যোগ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে বিশেষায়িত হাসপাতালে রূপান্তরের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে হল সংসদ ও চাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক এবং হলের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।