সেশনজটের কারণে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত ইবি শিক্ষার্থী মামুন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসী বিভাগে সেশনজটের কারণে ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক' তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হলেন বিভাগটির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, আব্দুল্লাহ আল মামুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে জীববিজ্ঞান অনুষদের সম্মিলিত স্নাতকের ফলাফলে ৩.৯০ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তার অনার্সের রোল নম্বর হলো ১৯৩০০০৫ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর হলো ২১৮৭।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা (সংশোধিত) ২০১৭ অনুযায়ী ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পৃথকভাবে মনোনয়ন প্রদান করতে হবে। তবে ২০২৫ সালের মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রদান-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৫' অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করতে হবে।
মামুনের দাবি, এই নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝে যাদের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে তাদের লিস্ট পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। ফার্মেসী বিভাগের সেশনজট ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৫ এর নভেম্বর মাসে কিন্তু ফলাফল প্রকাশিত হয় এবছরের এপ্রিল মাসে। অন্যদিকে বাকি ৮ বিভাগের রেজাল্ট প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালে। এ কারণে উক্ত পদকের তালিকায় তার নাম না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরবর্তী পজিশনের একজনকে মনোনীত করা হয়েছে।
মামুন আরও বলেন, 'এই নীতিমালা প্রতি বছর আলাদা আলাদা হওয়ায় পরবর্তী নীতিমালায় আমি এ পদক পাবো কিনা জানি না। এজন্য আমি শঙ্কায় ভুগছি।'
সেই সময়ে ফার্মেসি বিভাগে সভাপতির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, 'ফার্মেসি বিভাগে শুধুমাত্র ৪ জন শিক্ষক এজন্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালাতে গিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আর রেজাল্ট তৈরিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইটের সমস্যা আছে, তাই ওদের রেজাল্ট তৈরিতে আমাদের প্রায় ৩ মাস সময় লেগেছিল।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশিদ বলেন, 'আমি ওই শিক্ষার্থীর দরখাস্তটা পেয়েছি। সেটিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিশীঘ্রই পাঠাবো।'
.png)