রাজিব বাস দুর্ঘটনায় জামালপুরের ছয়জন নিহত, স্বজনদের আহাজারি
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া বাইপাস এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই জামালপুরের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। নিহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন ২৫ বছর বয়সী মর্জিনা আক্তার বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১টার দিকে আকুয়া বাইপাস এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছালে জামালপুরের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতদের মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫) রয়েছেন। তারা নান্দিনা থেকে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিলেন।
.png)
নিহত অপর দুজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম হোসেন (৪৫) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৮)। এ ছাড়া অটোরিকশার চালক সুজন মিয়া (৪৫) নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি রানাগাছা ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামে।
স্বজনরা জানান, মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মা, বিবাহিত মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনানকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যেতে বৃহস্পতিবার গ্রামের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা বাড়ি থেকে বের হন।
পরিকল্পনা ছিল নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহ গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাবেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আকুয়া বাইপাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একই পরিবারের চারজন।
মোফাজ্জাল হোসেন লেবুর স্বজন ইসমতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, লেবু গাজীপুরে দিনমজুরের কাজ করতেন। মা, ভাতিজি ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। তার ভাতিজি মর্জিনা দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসকে ঘিরে এর আগেও দুর্ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। একই পরিবারের চারজনসহ সাতজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকাহত।
এদিকে দুর্ঘটনার পর জামালপুর থেকে মুক্তাগাছা হয়ে ময়মনসিংহগামী রাজিব পরিবহনের বাস চলাচলে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামালপুর শহরের বজরাপুর এলাকায় রাজিব পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাসে যাত্রী তোলা হচ্ছে। কাউন্টারের টিকিট মাস্টার জানান, বিকল্প পথে ঢাকায় বাস পাঠানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজিব পরিবহনের বাসটি জামালপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি নান্দিনা থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।