ঢাকা,  শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বাদ ইবির সাবেক শিক্ষার্থী

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৫৯, ১ অক্টোবর ২০২৬
বসতভিটা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগে বাদ ইবির সাবেক শিক্ষার্থী
ভুক্তভোগী মিশন আচার্য। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েও স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকায় বাদ পড়ার অভিযোগ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক এক শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী মিশন আচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায়।

মিশন আচার্য অভিযোগ করে জানান, তার স্থায়ী ঠিকানায় কোনো বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। কলাবাগান এলাকাতেই তার জন্ম এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

Advertisement

মিশন আচার্য জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের জন্য ১৮২ জনকে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন নিয়োগপত্র পাননি, যাদের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। আর একজন তিনি নিজেই। এদের মধ্যে তিনি উপজেলা পর্যায়ে ১৭ তম স্থান অধিকার করেন। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

তিনি আরও জানান, পুলিশকে প্রথমে ভূমিহীন সনদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, জমির দলিল জমা দিলেও হবে। তখন তিনি জমা দেন। তবে স্থায়ী ঠিকানায় বসতভিটা না থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তার। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জমিজমা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে-এমন ধারণা থেকে তার খালু তাদের গ্রামের এলাকায় তার নামে দুই শতক জমি লিখে দেন। ওই জমির দলিলও তিনি পুলিশ তদন্তের সময় জমা দিয়েছেন। তবে সেখানে তার কোনো বসতবাড়ি নেই এবং তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি বলে জানান।

মিশন আচার্য বলেন, “আমার মা বাসাবাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমি সরকারের কাছে আমার চাকরিটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সদয় বিবেচনার অনুরোধ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কি দোষ? ভাড়া বাসায় জন্মেছি এটাই কি আমার দোষ? রাষ্ট্র আমার ভোট নিচ্ছে, আমাকে খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে কিন্তু জব দিচ্ছে না। মনে হচ্ছে- রাষ্ট্রের কাছে আমার মেধা আর পরিশ্রমের চেয়ে জমিজমার মূল্য বেশি।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে একটি জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, একটা সমাধান হবে।”

ডেইলি-বাংলাদেশ/ইবি/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!