ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশনে দলীয় পক্ষপাতের অভিযোগ, রাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশনে দলীয় পক্ষপাতের অভিযোগ, রাবিতে মানববন্ধন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)সরকারি চাকরিকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যে ভেরিফিকেশনের নামে পাশকৃত প্রার্থীদের অবৈধভাবে বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার মামা-খালু কোটা, সুপারিশ কোটা, ভেরিফেকিশন কোটার মাধ্যমে সরকারি চাকরির স্থরকে দলীয় করণ করার চেষ্টা করছে। আপনাদের বলবো মজলুমের কান্নাকে ভয় পান। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ন্যায় আগাবেন না।

Advertisement

তিনি আরোও বলেন, মেধাবি ও যোগ্যদের মূল্যায়ন না করে বিএনপি পন্থী দের সুযোগ দেওয়ার যে পাঁয়তারা সরকার করছে আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। 

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘গত সাত মাসে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যক্রম স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করার পরিবর্তে সেটিকে আরও সংকটের দিকে নেওয়া হচ্ছে। তিনি চাইলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের নতুন মাত্রা যোগ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই সাত মাসে এমন কোনো পদক্ষেপ কি আছে, যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ কথা বলেনি? শিক্ষার্থীদের আবেগ নিয়ে খেলার জন্য ভেরিফিকেশনের নামে এত দেরি করার কোনো প্রয়োজন নেই। ভেরিফিকেশন যদি এতই প্রয়োজন হয়, তাহলে অনার্স শেষ করে কেউ যখন চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেবে, তখনই তা করা যেতে পারে। লিখিত, প্রিলিমিনারি ও ভাইভা শেষ হওয়ার পর ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষার্থীদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি করার প্রয়োজন কী?’

​​​বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ মুনাওয়ার সিফাত মেধার বদলে ‘পোলিং ভেরিফিকেশন’-এর মাধ্যমে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, অতীতে মেধার মূল্যায়ন প্রধান বিবেচ্য হলেও বর্তমানে মেধার বদলে শুধুমাত্র ‘ভেরিফিকেশন’-কেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা (যেমন শিক্ষা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা) পূরণের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভেরিফিকেশনের নামে চাকরি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সরকার নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে সকল প্রার্থীর ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধার ভিত্তিতেই প্রত্যেকের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে এটি নতুন কোনো কোটা বা প্রার্থী বাদ দেওয়ার কৌশল কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। কিন্তু কোনো কারণ না দেখিয়ে এভাবে প্রার্থী বাদ দেওয়া প্রকারান্তরে প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে দলীয়করণের চেষ্টা।’

শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন ‘যে সরকার এনটিআরসিএ নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল করে, মনগড়া পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করার পায়তারা করেছিল! তারা ভাইবাতে মার্ক বৃদ্ধি করে দলীয় নেতাকর্মী সুপারিশ, এমপি-মন্ত্রীর সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল। সর্বশেষ তারা পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অবৈধভাবে যে শিক্ষার্থী চাকরি পাওয়ার যোগ্যতায় এবং মেধাবী, তাদেরকে বাদ দিয়ে তারা দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।’

তিনি আরও বলেন আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ড. তারেক রহমান—আপনার যদি শুভবুদ্ধির উদয় না হয়, আপনি যদি বিগত স্বৈরাচারী শাসক থেকে শিক্ষা না নিয়ে থাকেন, তাহলে অতি দ্রুত শিক্ষা নেন। না হলে এমন সময় আসবে যে, শেখ হাসিনা তো দিল্লি পালানোর সময় পেয়েছিল, আপনি লন্ডনে যাওয়ার সময়ও পাবেন না! তারেক রহমান, তাই এখনো সময় আছে আপনার মন্ত্রীদের সামলান। আপনার মন্ত্রীদের সংযত করুন, না হলে কিন্তু এমন দিন আসবে যেদিন সামাল দিতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, প্রাইমারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রিলি, রিটেন, ভাইভায় উত্তীর্ণ হ‌ওয়ার সুপারিশ প্রাপ্তের পরেও পুলিশ ভেরিফিকেশনে উল্লেখ যোগ্য চাকরি প্রত্যাশী বাদ পড়ায় সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/রাবি/একেকে
ক্যাম্পাস জনপ্রিয় খবর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!