ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

ডাকসু নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৩, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসু নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের
ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজন এবং প্রয়োজনীয় গঠনতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও এখনো পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা গ্রহণযোগ্য নয়। গঠনতন্ত্রে নির্ধারিত অতিরিক্ত ৯০ দিনের সুযোগকে নির্বাচন বিলম্বের কারণ হিসেবে ব্যবহার না করে এই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে সুনির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং নির্বাচনের তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

২০২৫ সালের ডাকসুর কার্যক্রমের সমালোচনা করে তারা বলেন, গত এক বছরে শিক্ষার ব্যয়, আবাসন, গবেষণা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে যথেষ্ট ধারাবাহিক উদ্যোগ দেখা যায়নি।

আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী আবাসন ব্যবস্থা, আবাসন ভাতা এবং সিট বণ্টনে স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতি নিশ্চিত করতে ডাকসুর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন চলাচলের বিষয়েও ডাকসুর ধারাবাহিক ভূমিকার দাবি জানানো হয়। অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকার, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে ডাকসুর নিজস্ব উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু নেতাদের কয়েকটি কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করা হয়। বিশেষ করে হকার উচ্ছেদ অভিযানে ডাকসু নেতাদের অংশগ্রহণ এবং টিএসসিতে আয়োজিত কয়েকটি প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব কর্মকাণ্ড ডাকসুর প্রতিনিধিত্বশীল চরিত্র ও গঠনতান্ত্রিক সীমা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা।

ডাকসুর গঠনতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, উপাচার্যের পদাধিকারবলে সভাপতির দায়িত্ব পালন, প্রশাসনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, সভা পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের মতো বিধান পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং প্রার্থী ও সংগঠনগুলোর অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজন ও একাডেমিক ক্যালেন্ডারে তা অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রশাসন ও সভাপতির একক ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া।

ডেইলি-বাংলাদেশ//একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!