ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ক্যাম্পাস ]

জাবিতে হল প্রভোস্ট কক্ষে দু'দিন ধরে তালা

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাবিতে হল প্রভোস্ট কক্ষে দু'দিন ধরে তালা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রভোস্টের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে রাখার দৃশ্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের জেনারেটর, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দাবিতে টানা দু'দিন ধরে হল প্রভোস্টের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ পাপন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

সভাপতি পাপন তালা দেওয়াকে যৌক্তিক আন্দোলন বলে দাবি করলেও সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, আলোচনার পথ এড়িয়ে একক সিদ্ধান্তে তালা দেওয়া হয়েছে। এতে হলের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাজউদ্দীন হলে জেনারেটরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে লিফটসহ হলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে হল ছাত্রদলের সভাপতি পাপন লিফট, জেনারেটর, ডাইনিংয়ের খাবারের মানসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে একক সিদ্ধান্তে প্রভোস্টের কার্যালয়ে তালা দেন। পরে প্রভোস্টসহ অন্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

পরদিন রাত ১০টার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক খো. লুৎফল এলাহী ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুর সাত্তার জয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য হলে যান।আলোচনায় হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল রিয়াজ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা, সদ্য সাবেক জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদকসহ আবাসিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পাপনকে তালা খুলে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তাদের বক্তব্য ছিল, আলোচনা থেকে সন্তোষজনক সমাধানের আশ্বাস না মিললে পরবর্তীতে আবারও কর্মসূচি দেওয়া যেতে পারে। তবে পাপন তালা খুলতে রাজি হননি। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সামনেই হলের এক কর্মচারীকে দিয়ে তালা ভাঙা হয়। এরপর সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে হলের বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে ওই বৈঠকে পাপন ও তার সমর্থক কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশ নেননি। বৈঠক শেষে আবারও সবার সম্মতি ছাড়াই পাপন ও তার সমর্থকরা প্রভোস্টের কক্ষে পুনরায় তালা লাগিয়ে দেন।

এ ঘটনায় হল ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ পাপন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে হলের নানা সমস্যা নিয়ে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রভোস্ট কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।"

প্রভোস্ট কক্ষে তালা দেওয়ার বিরোধিতা করে হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, "হল কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। হল-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। হলের সমস্যা সমাধানের কার্যকর পথ হলো আলোচনা। প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপে না বসে এককভাবে তালা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।"

পাপন আরও বলেন, "আন্দোলন সফল হওয়ার আগে তালা খোলা আন্দোলনের নীতির পরিপন্থী। আমরা প্রভোস্ট ও প্রক্টরকে গেস্ট রুম, টিভি রুম বা অন্য কোনো স্থানে বসে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষার্থী পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগে তালা খুলে পরে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেন।" তার অভিযোগ, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা রিয়াজুল এবং ছাত্রদল নেতা ইমরানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় তাকে না জানিয়েই তালা ভাঙা হয়েছে। তাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক খো. লুৎফল এলাহী বলেন, "গতকাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবিগুলো নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। আজ সকাল থেকেই জেনারেটর মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত অন্যান্য সমস্যারও সমাধান করা হবে। উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সম্মতিতেই তালা ভাঙা হয়েছিল। কিন্তু পরে পাপন আবারও জোর করে কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তার এবং ছাত্রদলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

ডেইলি-বাংলাদেশ//একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!