ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

পাঠকপ্রীতি ধরে রেখেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের চার ভাষার ছয় বই

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪৬, ১৩ মার্চ ২০২৬
পাঠকপ্রীতি ধরে রেখেছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের চার ভাষার ছয় বই
ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে বইমেলা শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎসবই নয়, এটি বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ভাষাগত বৈচিত্র্যেরও এক মিলনমেলা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিও ধীরে ধীরে বইমেলার পরিসরে জায়গা করে নিচ্ছে। এবারের মেলায় বিদ্যানন্দ থেকে প্রকাশিত চারটি পৃথক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষায় রচিত ৬ বই ভীষণ সাড়া ফেলেছে। বইগুলো পুরানো হলেও, পাঠকপ্রীতি ধরে রেখেছে।

বইগুলোর মধ্যে কোনটি পুরাণকাহিনি কোনটি বা রূপকথায় লিখা। বাংলা ভাষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত ওই ছয় বই। এর মধ্যে কোন বই পুরাণ কাহিনী আবার কোনটি রূপকথার গল্প অবলম্বনে লিখা।

মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিদ্যানন্দের স্টলে দেখা মিলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চার ভাষায় লিখিত ছয় বই। বইগুলোতে সংশ্লিষ্ট ভাষার লেখার পাশাপাশি ট্রান্সক্রিপ্ট হিসেবে বাংলাকে রাখা হয়েছে। বয়োবৃদ্ধদের মুখে শোনা পৌরাণিক কাহিনী এবং ছোট বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের মুখে শোনা প্রচলিত রূপকথার গল্পগুলোও এতে স্থান পেয়েছে।

Advertisement

জানা যায়, সাঁওতালি ভাষায় রূপকথা, ম্রো ভাষায় রূপকথা ১, ম্রো ভাষায় রূপকথা ২, মারমা ভাষায় রূপকথা, ইয়াংঙান ম্রোর ম্রো রূপকথা, চাকমা ভাষার রূপকথা ; এসব গ্রন্থগুলো বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিদ্যানন্দ প্রকাশনী সেগুলো সংগ্রহ করে বাংলার পাশাপাশি লেখা জানে এমন লোকেরা সেগুলো লেখ্য রূপে স্থান দেয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দের স্টলে দায়িত্বে থাকা মনজুর আলম বাংলাদেশ গার্ডিয়ানকে বলেন, বইগুলোতে যেসব কাহিনী স্থান পেয়েছে সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বয়স্ক ও ছোটদের কাছ থেকে শোনা গল্পগুলো এই বইগুলোতে স্থান পেয়েছে। তবে গল্প বিষয়টি সংগ্রহ সহজ হলেও লেখার বিষয়টি অনেক দূঃসাধ্য একটি কাজ ছিল।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষাতে লিখা অনেক মানুষ আমরা পাইনি। এর মধ্যে সাঁওতালি ভাষার দুটো লিখিত রূপ রয়েছে। আমরা শুধু রোমানটি সংগ্রহ করতে পেরেছি। দিনকে দিম মানুষ এসব অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে যাওয়াতে এসব ভাষাগুলো হারিয়ে যাওয়ার মুখে। আমরা আমাদের গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে ভাষাগুলো সকল ধর্ম-জাতি মানুষের কাছে তুলে ধরার একটি প্রয়াস চালিয়েছি।

মেলা উপলক্ষে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান সম্রাট বলেন, মেলার লোক সমাগম এবার খুবই কম। তারপরে আমাদের স্টলে লোকসমাগম রয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের সময় লোক সমাগম বেশ ভালে লক্ষ্য করা যায়। আর বইয়ের দিক দিয়ে বলতে গেলে, এই কয়েকটি বই (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত) বেশ ভালো চলছে। 

বিদ্যানন্দের এমন উদ্যেগ একদিকে যেমন পাঠক প্রীতি ধরে রাখবে তেমনি দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও তা লিখিত আকারে সংরক্ষণের দীর্ঘদিন সেই সীমিত উদ্যোগ, সেটিও ঘুচে যাবে। পাশাপাশি নিয়মিত এসব ভাষার বই প্রকাশ করা হলে ভাষাগুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং সংরক্ষণের পথও সুগম হবে, প্রত্যাশা পাঠকদের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!