এদিকে সরেজমিন মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখা গেছে, অনুবাদ সাহিত্যের একটি বড় পাঠক শ্রেণি বেশ ভালো ভিড় দেখা গেছে। তবে অনুবাদ সাহিত্যে বয়সে তরুণদের একটা অংশের ভালো চাহিদা রয়েছে।
পাঠকরা জানান, অন্য ভাষা দুর্বোধ্য হওয়াতে বাংলা ভাষার সহজলভ্যতায় বাংলা অনুবাদ সাহিত্য বেশ কাছে টেনে। যার মাধ্যমে স্বদেশী ভাষায় মেলে বিদেশি স্বাদ। এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম ইসলামের সঙ্গে। তিনি কিনছেন ফ্রানৎস কাফকার চিঠি: নির্বাচিত সংকলন। নাঈম বলেন, বইটির কিছু দেখে ভালো লাগল তাই কিনে ফেললাম। আশা করি ভালো লাগবে। তাছাড়া বাংলা ভাষায় বিদেশি স্বাদ মন্দ নয়। সেই দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য সব কিছু জানা এবং পড়ার মাধ্যমে একটা বিদেশি কল্পনার জগত তৈরি করে।
.png)
তিনি আরো বলেন, অনুবাদ সাহিত্যে একটু মানসম্মত বিষয়টি বজায় রাখা উচিত। অনেক বই দেখেছি যেটা ভাবানুবাদ করা প্রয়োজন ছিল সেটি করে ফেলেছে আক্ষরিক অনুবাদ। বাংলা সাহিত্য সম্ভার সমৃদ্ধ করতে এদিকে বাংলা সাহিত্য বিদেশি অনুবাদের গুরুত্ব দিতে হবে তেমনি বিদেশি সাহিত্য বাংলা অনুবাদেও সমৃদ্ধ করতে হবে।
গ্রন্থরাজ্যের বিক্রয়কর্মী লাভলু বলেন, অনুবাদ সাহিত্যের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমাদের অনুবাদ বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে।
ভূমি প্রকাশের প্রকাশক জাকির হোসাইন বলেন, আমাদের দেশে অনুবাদের পাঠক বাড়ছে, এটি সাড়া জাগানো বিষয়।
মানের বিষয়ে প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে প্রকাশকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনুবাদের বই প্রকাশের পর যদি পাঠক তা পড়ে বুঝতে না পারে, তাহলে সে অনুবাদ ব্যর্থ। সে জন্য বই অনুবাদের পর পাণ্ডুলিপি নিজস্ব সম্পাদক দিয়ে সম্পাদনা করতে হবে। আর যদি তা না থাকে তাহলে ফ্রিল্যান্স সম্পাদকদের দিয়ে সম্পাদনা করে নেওয়া যেতে পারে। তাহলে সাবলীল বাংলায় হবে এবং যে কেউ পড়ে বুঝতে পারবে।
এদিকে ঘাসফুলের অন্যতম প্রকাশক চয়ন চৌধুরী বলেন, অনেক পুরেনো কিছু বই রয়েছে। কিন্তু ভালো ও মানসম্মত অনুবাদের কারণে সেগুলো প্রকাশ করতে পারছি না। সেক্ষেত্রে যারা অনুবাদ নিয়ে কাজ করে তাঁদেরও উচিত হবে, এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা এবং গুরুত্ব দেওয়া।