ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

একুশের ছোঁয়ায় বইমেলায় উপচেপড়া ভিড়, গত ২০ দিনের চেয়ে বিক্রি বেশি

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
একুশের ছোঁয়ায় বইমেলায় উপচেপড়া ভিড়, গত ২০ দিনের চেয়ে বিক্রি বেশি
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপচেপড়া ভিড় ছিল। পাঠক-দর্শনার্থীতে মুখর ছিল বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। প্রকাশক-বিক্রেতা কর্মীদের দাবি গেল ২০ দিনের তুলনায় বিক্রি অনেক। 

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় মেলার দুয়ার খোলে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুরুতে লোকসমাগম সেই অর্থে না থাকলেও দুপুর ২টার পর থেকে উপচেপড়া ভিড় হতে শুরু করে। তবে ভিড় তুলনামূলক ভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাঙ্গণে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শিশু-কিশোর-প্রবীণদের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। সেইসঙ্গে সাদা-কালো রঙের বাহারি পোশাকে এসেছেন মেলাতে। 

উপচেপড়া ভিড়ে মুখে মেলার অনেক প্রবেশমুখে তল্লাশি ছাড়াই পাঠক-দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বিক্রয়কর্মীদের দাবি, একদিকে যেমন লোকসমাগম হচ্ছে অন্য দিকে তেমনি বাড়ছে বিক্রি। কারো বা দাবি ২০ দিনের তুলনায় সবচেয়ে ভালো বিক্রি হয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে।

Advertisement

ঐতিহ্যের বিক্রেতা কর্মী শরিফউদ্দিন আদনান বলেন, আজকে লোকসমাগম যেমন বেশি তেমনি ক্রেতা সংখ্যাও অনেক বেশি। আমার পাশ থেকে বিষয়ভিত্তিক বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি।

পাঠক-দর্শনার্থীতে মুখর ছিল বইমেলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অবসর প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মো. রাসেল বলেন, বরাবরই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে বইমেলাতে। গত ২০ দিনের তুলনায় আজ অনেক ভালো ও সন্তোষজনক বিক্রি হচ্ছে। লোকসমাগম হলেও একটি বড় পাঠক শ্রেণি আজ মেলাতে এসেছে। 

এদিকে বইমেলার ভিড় নিয়ে অনিন্দ্য প্রকাশের বিক্রয়কর্মী আশিকুর রহমান বলেন, এবারের মেলা শুরু থেকেই অনেক বেশি জমজমাট। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। তবে আজকের মতো ব্যস্ত সময় আর কাটেনি। ১৪ ফেব্রুয়ারিও অনেক ভিড় ছিল। বেচাকেনাও হয়েছিল ভালো। তবে ঐ দিনের তুলনায় আজ ভিড় আরো বেশি। 

২১শে ফেব্রুয়ারি বিক্রি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট প্রকাশকরাও। একাধিক প্রকাশকের সঙ্গে ডেইলি বাংলাদেশের কথা হলে তাঁরা জানান, সব মিলিয়ে ভালো বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি ভালো হবে এটি একটি রীতি তবে এবার অন্যবারের চেয়ে লোকসমাগম অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন অনেক প্রকাশকেরা।

এদিকে সকাল ৮টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। কবি শামীম আজাদের সভাপতিত্বে স্বরচিত কবিতাপাঠে প্রায় ১৩৫জন কবি কবিতা পাঠ করেন।

পাঠক-দর্শনার্থীতে মুখর ছিল বইমেলা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এদিকে বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা অ্যাকাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. সরকার আমিন। অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা অ্যাকাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. হাসান কবীর। একুশে বক্তৃতানুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা অ্যাকাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন।

ড. সরকার আমিন বলেন, রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন ছিলেন সমাজ-সচেতন, শিক্ষানুরাগী ও জ্ঞানদীপ্ত একজন মানুষ। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি নারী-পুরুষের ভেদাভেদকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের ভূমিকাই সমান।

আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, বাঙালি জাতির কাছে রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন এখন আর একটি নামমাত্র নয়, বাঙালি জাতির পথ চলবার এক নিরন্তর অনুপ্রেরণা, এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখা। সমাজের কল্যাণের স্বার্থে মুসলিম নারীর শোচনীয় এবং অধঃপতিত অবস্থা সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছিলেন তিনি। প্রতিকূলতার ভেতর দিয়েই সংগ্রাম করে তিনি জীবনের পথে, কর্মের পথে অগ্রসর হয়েছিলেন। একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে তাঁর মানবীয় স্বপ্নকে আজও আমরা নিরন্তর বাস্তবে রূপায়িত করে চলেছি।

এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, শিশুসাহিত্যিক ওয়াসিফ এ খোদা, কথাসাহিত্যিক মাসউদ আহমাদ এবং শিশুসাহিত্যিক ইমরান পরশ।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপচেপড়া ভিড় ছিল।

বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫ টায় 'প্রথম কবিতার বই অনুভূতির দলিল' এই প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আশনা হাবিব ভাবনা, স্নিগ্ধা বাউল, সঞ্জয় ঘোষ, রিপন আহসান রিতু, মীর রনি, মাশরুরা লাকী ও মিনহাজুল হক। গোলটেবিল সঞ্চালনা করেন কবি ফারহান ইশরাক ও কথাসাহিত্যিক খালিদ মারুফ।

এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, আমিনুর রহমান সুলতান, হাসানাত লোকমান, বদরুল হায়দার, ফারহানা রহমান, সঞ্জীব পুরোহিত, নূর-এ-জান্নাত, শিমুল পারভীন এবং আরেফিন রব। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আশরাফুল আলম, রূপা চক্রবর্তী এবং আহকামউল্লাহ। এছাড়াও ছিল ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং মানজারুল ইসলাম সুইটের পরিচালনায় ‘সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী’র পরিবেশনা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: ঢাবি বইমেলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!