ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

বইমেলার সৌন্দর্য ধরা দিচ্ছে ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীতে

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:২৮, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বইমেলার সৌন্দর্য ধরা দিচ্ছে ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীতে
ছবি: ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীর বইমেলা

ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে; সুপ্ত আগামী প্রজন্ম সৌন্দর্য ধরা দেয় ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীতে। সচরাচর বইমেলা বড় পদচারণা চোখে পড়ার মতো হলেও মেলার শুক্র ও শনিবার শিশু প্রহর থাকাতে শিশু-কিশোরদের পদচারণায় এক ধরনের প্রাণের সঞ্চার হয়, যেখানে ধরা দেয়। 

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় মেলার দুয়ার খোলে চলে ৯টা পর্যন্ত। মেলার শুরুতে প্রথম ভাগে শিশু প্রহর ও পৃথক তিন সময় জুড়ে সিসিমপুরের শো থাকাতে ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীতে যেন প্রাণের সঞ্চারে পূর্ণ ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। 

মিরপুর ১০ থেকে বাবার সঙ্গে এসেছেন চতুর্থ শ্রেণির রাদিয়া। রাদিয়া বলে, আমি গল্পের বই আর কিছু স্টিকার কিনেছি। নতুন কিছু কমিকসের বই কিনতে চাই। আমার কমিকস অনেক পছন্দ।

Advertisement

মতিঝিল আইডিয়ালের তৃতীয় শ্রেণির সানজিদা মেঘলা সিসিমপুরের বেশ ভক্ত। তার প্রিয় চরিত্র সিকু। মেঘলা ডেইলি বাংলাদেশকে বলে, আমি বড় হয়ে সাইন্টিস্ট হতে চাই। আমি কিছু সাইন্স ফিকশনের বই কিনেছি। এছাড়া একটা বিজ্ঞান বক্সও কেনা হয়েছে। 

সিকু কেন প্রিয় এমন প্রশ্নের জবাবে মেঘলা বলে, সিসিমপুরের বন্ধুদের বরাবরই আমার ভালো লাগে। তবে সিকুকে বেশি ভালো লাগে। কারণ ও (সিকু) বিজ্ঞানী। সিকুর পছন্দ নতুন বিষয় আবিষ্কার করা।

ছবি: বই হাতে ক্ষুদে পাঠকএদিকে ব্যাংকার পিতা মেহেদী হাসান দুই মেয়ে মালিহা-লাবিবাকে নিয়ে মেলাতে এসেছেন। মেহেদী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, শিশু প্রহরে শিশুদের জন্য একটি বিশেষ আয়োজন থাকে। সেজন্য তাদের মেলাতে নিয়ে আসা, তাছাড়া বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ে সেজন্যই নিয়ে এসেছি। কেননা বইয়ের সঙ্গে থাকতে থাকতেই বইয়ের প্রতি ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যাবে। একটা সময় গিয়ে বই হবে তার প্রিয় বন্ধু। সেই চিন্তা থেকেই বাচ্চাদের মেলাতে নিয়ে এসেছি। 

তিনি আরো বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করি মেলায় বিশেষত শুক্রবার ও শনিবার তাদেরকে মেলাতে আনার। আমি চাই আমার সন্তানকে না হয়ে বইমুখী হোক। একমাত্র বই পারে সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত করে একমাত্র পরিপূর্ণ জাতি হিসেবে নিজেকে গড়তে।

ঝিঙেফুল প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারীর অন্যতম ইমরুল কয়েস খান বলেন, এবারের মেলাতে ৪০ টি নতুন বই এসেছে। মূলত আমরা গল্প-কবিতা-সায়েন্স ফিকশনের বই গুলো বেশি প্রকাশ করে থাকি। তাছাড়া এসব ক্যাটাগরির বইগুলোই শিশু-কিশোরদের পছন্দের তালিকায় থাকে।

ছবি: মেলার সৌন্দর্য ক্ষুদে পাঠকতিনি আরো বলেন, তুলনামূলক আমি ভালো সাড়া পাচ্ছি এবারের মেলাতে। লোক সমাগমও ভালো, তাছাড়া আজ শিশু প্রহর ও বন্ধের দিন হওয়াতে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

উল্লেখ্য, মাস জুড়ে অমর একুশে বইমেলার সপ্তাহে দুইদিন শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়কে শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে বাংলা একাডেমি। এছাড়া প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা, বিকেল সাড়ে ৩টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তিনটি করে শো করার কথা রয়েছে সিসিমপুরের।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!