ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বইমেলা ]

বইমেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের চার ভাষায় লিখিত ছয় বই

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪০, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বইমেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের চার ভাষায় লিখিত ছয় বই
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমানে দেশে ৪৯ এর অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বাস। সংখ্যায় কম হলেও ইতিহাস-ঐহিত্যে-সংস্কৃতিতে বেশ সমৃদ্ধ তাদের কৃষ্টি। তবে তারা সংখ্যালঘু হওয়াতে হারাতে বসেছে কথ্য ভাষার পাশাপাশি লেখ্য সব ভাষা। তাই এবার মেলাতে পাওয়া যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চার ভাষায় রচিত ছয় বই। বাংলা ভাষার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় রচিত ঐ ছয় বই। এর মধ্যে কোনো বই পুরাণকাহিনি আবার কোনোটি রূপকথার গল্প অবলম্বনে লিখা।

মেলার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বিদ্যানন্দের স্টলে দেখা মিলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চার ভাষায় লিখিত ছয় বই। বইগুলোতে সংশ্লিষ্ট ভাষার লেখার পাশাপাশি ট্রান্সক্রিপ্ট হিসেবে বাংলাকে রাখা হয়েছে। বয়োবৃদ্ধদের মুখে শোনা পৌরাণিক কাহিনি এবং ছোট বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের মুখে শোনা প্রচলিত রূপকথার গল্পগুলোও এতে স্থান পেয়েছে।

জানা যায়, সাঁওতালি ভাষায় রূপকথা, ম্রো ভাষায় রূপকথা ১, ম্রো ভাষায় রূপকথা ২, মারমা ভাষায় রূপকথা, ইয়াংঙান ম্রোর ম্রো রূপকথা, চাকমা ভাষার রূপকথা; এসব গ্রন্থগুলো বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিদ্যানন্দ প্রকাশনী সেগুলো সংগ্রহ করে বাংলার পাশাপাশি লেখা জানে এমন লোকেরা সেগুলো লেখ্য রূপে স্থান দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বিদ্যানন্দের স্টলে দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান সম্রাট বলেন, বইগুলোতে যেসব কাহিনি স্থান পেয়েছে সেগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বয়স্ক ও ছোটদের কাছ থেকে শোনা গল্পগুলো এই বইগুলোতে স্থান পেয়েছে। তবে গল্প বিষয়টি সংগ্রহ সহজ হলেও লেখার বিষয়টি অনেক দুঃসাধ্য একটি কাজ ছিল।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষাতে লিখা অনেক মানুষ আমরা পাইনি। এর মধ্যে সাঁওতালি ভাষার দুটো লিখিত রূপ রয়েছে। আমরা শুধু রোমানটি সংগ্রহ করতে পেরেছি। দিনকে আদিম মানুষ এসব অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে যাওয়াতে এসব ভাষাগুলো হারিয়ে যাওয়ার মুখে। আমরা আমাদের গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে ভাষাগুলো সব ধর্ম-জাতি মানুষের কাছে তুলে ধরার একটি প্রয়াস চালিয়েছি।

মেলা উপলক্ষে কেমন সাড়া পাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান সম্রাট বলেন, বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এছাড়া বিশেষত অনুবাদের জন্য আমাদের বইগুলো পাঠক বেশি কিনছেন। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে আমাদের বিক্রি আরো বেড়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছে ৬৩৫টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: ঢাবি বইমেলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!