ভারতীয় এই যুবক বেনাপোল, যশোর, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মুজিবনগর, কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, হিলি, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ জেলা ঘুরে তারপর ঢাকায় এসেছেন।
মঙ্গলবার তিনি যান বইমেলায় ও শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে। তার এ পরিভ্রমণের স্লোগান ছিল- ‘গাছ বাঁচাও, প্রাণ বাঁচাও’।
.png)
এতটা পথ ভ্রমণ শেষে বইমেলায় এসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে অক্ষয় ভগত বলেন, অনেক ভালো লাগছে একুশে বইমেলায় এসে। বইমেলা এবং শহিদ মিনারে ভাষা-শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ফেব্রুয়ারি মাসকে বেছে নিয়েছি বাংলাদেশে আসার জন্য।
বাংলাদেশে আসার পর এ দেশকে কেমন উপভোগ করছেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস সবই এক। কেবল কাঁটাতারের বেড়ায় দুই দেশে বিভক্ত হয়ে পড়েছি আমরা। কাঁটাতারের ওপারে বসে ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি এপারের সোনার বাংলার কথা। তাই এই সোনার বাংলায় একবার হলেও ঘুরতে আসার বড় ইচ্ছা ছিল। সে ইচ্ছা এবার পূরণ হলো।
পথে পথে কেমন অভিজ্ঞতা হলো জানাতে চাইলে অক্ষয় বলেন, যখন কাঁধে বাংলাদেশ আর ভারতের ঝাণ্ডা (পতাকা) নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি, তখন পথে পথে অসংখ্য মানুষ কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে এসেছে। আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে। যখন জেনেছে আমি ভারতীয়, তখন অবাক হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এদেশের মানুষের আতিথেয়তা বলে বোঝানো যাবে না। মাত্র দুই হাজার টাকা নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিলাম। এখন পর্যন্ত পথে পথে মানুষের যে আতিথেয়তা পেয়েছি তাতে আমি এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি প্রীত হয়ে পড়েছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে আবারো বাংলাদেশে আসবো।
বাংলা ভাষা কি দুই দেশের বাঙালিদের এক মেরুতে আনতে সক্ষম হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুই দেশে থেকেও আমরা এক ভাষায় কথা বলি। এক জাতি বাঙালি আমরা। যতই দুই দেশ হোক না কেন, দু’পারের বাঙালিরা এক সুতোয় গাঁথা।
অক্ষয় ভগত এর আগে ২০১৮ সাইকেলে করে ভারত ভ্রমণে বের হন। সে বছরের ৫ মার্চ শুরু করেন যাত্রা। ঐ ভ্রমণে ভারতের মোট ২৩টি রাজ্য ভ্রমণ করেন। এরপর ২০২২ সালে বের হন আফ্রিকা ভ্রমণে। সেবার কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা ও তানজানিয়া এই চারটি দেশ ভ্রমণ করেন সাইকেল নিয়েই।