বইটির অনুবাদটি আমি শুরু করেছিলাম তিন বছর আগে। ২০২১ সালে। মূলত করোনা অতিমারিকে এই মহামারির সাপেক্ষে বুঝতে গিয়ে। আমি বিস্মিত ও অভিভূত হয়েছিলাম উপন্যাসে বর্ণিত বিষয়গুলোর সঙ্গে করোনা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর অদ্ভুত মিল দেখে।
এরপর আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তা ও সন্ধিক্ষণ, কোয়ারেন্টাইন বা আলাদা থাকার যন্ত্রণা, এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক আচরণের অযৌক্তিকতাও।
.png)
‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসের পটভূমি আলজেরিয়ার উপকূলীয় শহর ওরান। সময়কাল ১৯৪০ এর দশক। শহরে ইঁদুর বাহিত একটা প্লেগ মহামারি ছড়িয়ে গেলে নাগরিকদের জীবন-মৃত্যু অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। নগর কর্তৃপক্ষ হতে নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রত্যেক নগরবাসীকে নিজ বাসস্থানে কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য। পাশাপাশি একজন স্থানীয় ডাক্তার সারাদিন-রাত চেষ্টা করে যান আক্রান্তদের বাঁচানোর জন্য। কিন্তু মৃত্যুর মিছিল বাড়তে থাকে। এর সমান্তরালে শহরের মানুষদের আচরণেও অযৌক্তিকতা বা অসংগতি প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। মৃত্যুভয় স্বত্বেও কেউ কেউ মন্দ কাজে জড়ায়; শুধু নিজেদের নিয়ে ভাবে। কেউ কেউ আবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মানুষের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য কাজ করে যায়।
সীমিত সংখ্যক কয়েকটা চরিত্রের মধ্যদিয়ে উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই চরিত্রগুলোর মধ্যদিয়ে ঔপন্যাসিক প্লেগের সময়কালে শহরের মানুষদের সামষ্টিক আচরণকে নিরীক্ষা করেছেন। দেখেছেন কীভাবে শহরের মানুষেরা ব্যক্তি ও সামষ্ঠিক সত্তা হিসেবে ভোগান্তি ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, নগর কর্তৃপক্ষ, এমনকি চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়াও তিনি বর্ণনা করেছেন।
উপন্যাসটিতে সবকিছুই এমনভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, বর্তমানকালের পাঠকরা সহজেই পুরো বিষয়টির সাপেক্ষে সাম্প্রতিক অতীতে সারা বিশ্বময় সংঘটিত ‘করোনা অতিমারি’র বন্দিদশা (কোয়ারেন্টাইন) ও মৃত্যুর মিছিলের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে পারবেন। পড়তে পড়তে মনে হবে যে, তারাও প্লেগের দিনগুলো পার করছেন জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তা নিয়ে। ‘দ্য প্লেগ’ উপন্যাসের কালোত্তীর্ণ হওয়ার সার্থকতা এখানেই।
বইটির প্রকাশক ‘ঘাসফুল প্রকাশনী’। মেলায় স্টল নম্বর ১৪৭-১৪৮।