ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী বেদেরা বিক্রমপুরে বিচরণ করে। পরে প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সাপের বিষ ঝাড়া, দাঁতের পোকা ফেলা, বাতের তেল বিক্রি ও শিঙা ফুঁকতে পারদর্শী বেদে মেয়েরা। ছেলেরাও তাবিজ ও ওষুধ বিক্রি, সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখায়।
মুন্সিগঞ্জের খোড়িয়া সর্দার সৌদ খান জানান, এক সময়ের নৌকায় ভেসে বেড়ানো জীবন এখন পেয়েছে ঠিকানা। গোত্র-উপগোত্রে বিভক্ত বেদেরা মুন্সীগঞ্জ, সাভার, চাঁদপুর, ফরিদপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। সাধারণত এরা বাংলায় কথা বলে। তবে নিজেদের মধ্যে ভাববিনিময়ে নিজস্ব ঠার ভাষা ব্যবহার করে।
.png)
ভাষা গবেষক রঞ্জনা বিশ্বাস বলেন, বেদেরা ক্রমহ্রাসমান একটি জনগোষ্ঠী। কেউ কেউ পড়াশোনার পর পেশা বদল করছেন। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে স্বকীয়তা হারাচ্ছে কৌম পরিচয়ও। এ অবস্থায় তাদের ভাষাটি যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে নজর রাখা দরকার।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. হাকিম আরিফ বলেন, ঠার ভাষার অভিধান ছাপানোর কাজ চলছে। এই ভাষার সঙ্গে আরাকানিদের ভাষার মিল আছে। তবে তাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ শব্দ বাংলা ভাষার আদিরূপ প্রাকৃত থেকে উদ্ভূত।