ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আজোয়া খেজুর চাষে সফলতা

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১৬:২৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আজোয়া খেজুর চাষে সফলতা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুর পৌর শহরের বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড়ের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান। বাড়ির ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে সৌদি আররেব বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেজুর চাষ ও চারা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন তিনি। এরইমধ্যে খেজুরের একটি মিনি নার্সারি গড়ে তুলেছেন। এতে আজোয়া খেজুর চাষে সম্ভাবনা দেখছেন মাহবুবুরসহ সংশ্লিষ্টরা। 

মাহবুবুর রহমানের ছাদের কোণে একটি আজোয়া জাতের খেজুর গাছ দেখা গেছে। গাছটিতে দুটি থোকায় সবুজ-গোলাপী-হলুদ বর্ণের বড় বড় খেজুর ঝুলছে। এর মধ্যে তিনি ছয় শতাধিক চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছেন। এছাড়া প্রায় তিন শতাধিক অঙ্কুর থেকে আজোয়া খেজুর গাছের চারা উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

সফল চাষি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাবা প্রায় ৩৫ বছর মদিনায় ডেভেলপমেন্টের মেকানিক্যাল ও পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদে কমরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। সেই সময় আজোয়া খেজুরের কিছু অঙ্কুর সংগ্রহ করেন তিনি। পরে সেই অঙ্কুরগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসলে মা শামসুন নাহার একটি মাটির পাত্রে রোপণ করেন।

Advertisement

তিনি বলেন, সাধারণত আজোয়া খেজুর বাংলাদেশে চাষ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করলে এ জাতের খেজুর চাষ করা সম্ভব। এ জাতের চারা যখন গাছে রূপান্তরিত হবে, তখন আরো চারা জন্ম দেবে। গাছটি বড় হলেই গোড়া থেকে একই জাতের অন্য ছোট চারা জন্ম হতে থাকে। এই জাতের খেজুর গাছের গড় আয়ু প্রায় ১০০ বছর হয়। যা বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে বেশি।

মাহবুবুর আরো বলেন, আজোয়া জাতের খেজুর গাছের জন্য পরাগায়ন খুবই জরুরি। কোনো বাগানে যদি ২০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়, তাহলে সেই বাগানে পরাগায়নের জন্য একটি পুরুষ গাছ রোপণ করতে হবে। প্রথমে একটি অঙ্কুরকে একটি মাটির পাত্রে রোপণ করতে হয়। তারপর গাছের চারা চার থেকে ছয় ইঞ্চি হলেই অন্য একটি বড় মাটির পাত্রে রোপণ করতে হয়। 

তিনি আরো বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় অনেক চাষি আজোয়া জাতের খেজুর চাষ করে সফল হয়েছেন। তারা বিশাল বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই রকম বিশাল বাগান গড়ে তোলার চিন্তা করছি। এখন বাড়ির ছাদে রোপণ উপযোগী প্রায় ছয় শতাধিক চারা রয়েছে। এখন অনেকে এ জাতের খেজুর গাছের চারা কিনতে আমার কাছে আসছেন। 

মাহবুবুর বলেন, আজোয়া খেজুর গাছ সব সময় পরিচর্যা করতে হয়। গাছটি মাটিতে রোপণের প্রায় চার বছরের মাথায় প্রথম ফল দেবে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। তখন পুরুষ গাছ থেকে সংগ্রহ করা পরাগায়নের পাউডার ফুলে ছিটিয়ে দিতে হয়। তাহলে গাছে খেজুরের ফলন ভালো হয়। যেদিন গাছে প্রথম ফুল আসে, সে দিনই তিন থেকে চার বার পাউডার ছিটাতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ছাদে থাকা গাছ থেকে আনুমানিক ১৫ কেজি খেজুর পাওয়া যাবে। পরের বছরগুলো গাছে তিন গুণ বেশি খেজুর পাওয়া যাবে।  

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন, সৌদি আরবের আবহাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আবহাওয়ার অনেকাংশ মিল রয়েছে। এতে আজোয়া খেজুর আমাদের দেশে উৎপাদন করা সম্ভব। এ জাতের  খেজুর গাছে বেশি পরিচর্যা করলে বেশি ফল আশা করা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!