৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছয় ছেলে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭,   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল ছয় ছেলে

নাটোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১০ ৪ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৩:১৩ ৪ এপ্রিল ২০২০

বুঞ্জনী বেওয়া

বুঞ্জনী বেওয়া

নিজের ১২ বিঘা ও স্বামীর ৩২ বিঘা জমি ছিল বুঞ্জনী বেওয়ার। স্বামীর মৃত্যুর পর বাবার সম্পত্তি ভাগ করে নেয় ছেলে-মেয়েরা। ছয় ছেলে ও এক মেয়ের পাশাপাশি নিজের সচ্ছলতা ছিল বৃদ্ধা বুঞ্জনীর। কিন্তু নানা প্রলোভন দেখিয়ে মায়ের নামের জমি ছেলেরা নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে ছয় ছেলে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউপির গড়মাটি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওই বৃদ্ধা একই গ্রামের হাজির উদ্দিন প্রামাণিকের স্ত্রী।

গড়মাটি গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, বুঞ্জনী বেওয়ার স্বামী হাজির উদ্দিন সচ্ছল মানুষ ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে হাজির উদ্দিন মারা যান। এতে এক বছর পর বাবার জমি ভাগাভাগি করে আলাদা করে ছেলেরা। মেয়েকে বিয়ে দেয়া হয়। স্বামীর রেখে যাওয়া একটি ঘরে বসবাস করতেন বুঞ্জনী। নিজের জমি বর্গা দিয়ে ভালোভাবেই দিন চলত তার। কয়েক বছর পর বুঞ্জনীকে নানা প্রলোভনে দেখিয়ে সব জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয় ছেলেমেয়েরা।

তিনি আরো বলেন, স্বামীর রেখে যাওয়া ঘরটি পঞ্চম ছেলে শহিদুল দখলে নেয়। এতে ছেলেদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। এক সপ্তাহ পরপর এক ছেলে বাড়ি থেকে আরেক ছেলের বাড়িতে যেতে হয়। বয়স বেশি হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। বৃহস্পতিবার মাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব পড়ে চতুর্থ ছেলে লুৎফর রহমানের ভাগে। কিন্তু লুৎফর সাফ জানিয়ে দেন, মাকে খাওয়ানোর মতো খাবার ঘরে নেই। ছেলে একটা ভ্যান ডেকে ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র দিয়ে মাকে দফাদার ইয়াসিন আলীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

ইয়াসিন আলী বলেন, হাজির উদ্দিনের সব ছেলে-মেয়ে মোটামুটি শিক্ষিত ও সচ্ছল। বড় ছেলে মতিউর রহমান গোপালপুর ইউপির সদস্য। অন্যরা ব্যবসা ও কৃষিকাজ করে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বৃদ্ধা মায়ের খাবার জোটে না তাদের কাছে। অন্যের কাছ থেকে তার ওষুধ কেনার টাকা চাইতে হয়।

বুঞ্জনী বেওয়া বলেন, সব জমি ফেরত চাই। জমি না থাকায় ওরা ভাত দেয় না। মরে গেলে ওই জমি তো ওরাই পাবে।

বড় ছেলে মতিউর রহমান বলেন, মায়ের সম্পত্তি শেষ হলে সব ভাই ও তাদের বউরা ভাত-কাপড় দিতে ঠেলাঠেলি শুরু করে। মা বিচারের আশায় বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। আমি পালা করে ভাত-কাপড় দিতে রাজি আছি। অন্য ভাইরা মানবেন কিনা সভা ডেকে নিশ্চিত হতে হবে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, বৃদ্ধার কথা শুনে ইউএনও-এর সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।

ইউএনও আনোয়ার পারভেজ বলেন, ১১ এপ্রিল ছয় ছেলে ও তাদের বউদের আমার কার্যালয়ে ডেকেছি। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন ঘটনা মেনে নেয়া যায় না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ