লবণাক্ত জমিতে প্রথম গম চাষ, কৃষকের মুখে হাসি
খুলনা জেলার একটি প্রত্যন্ত উপজেলা কয়রা। তীব্র লবণাক্ততার কারণে এ এলাকায় বছরে শুধু আমন মৌসুমে ধান চাষ করা যায়। এ সমস্যা উত্তরণে এগিয়ে এসেছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)।
এ বছর ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় কয়রায় লবণাক্ত জমিতে উন্নত জাতের গমের চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে ভালো ফলন ও বেশি লাভের আশায় এখন গম চাষে ঝুঁকছেন ওই এলাকার কৃষকরা ।
জানা গেছে, ওই উপজেলার অধিকাংশ জমি আমন ধান কাটার পর খালি পড়ে থাকতো। বিষয়টি বিবেচনায় এনে কৃষি গবেষণা বিভাগ কয়রার কৃষকদের ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত ‘বারি গম-৩৩’ চাষের পরামর্শ দেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন উপজেলার কৃষকরা। এখন সেখানে মাত্র ১টি সেচ প্রয়োগে গমের ফসল ফলানো হচ্ছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কয়রার কৃষকরা।
কৃষক মো. শফি শেখ বলেন, জমিতে আমন কাটার পর খালি পড়ে থাকতো। এ বছর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আমি ৫ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। আশা করছি ভাল ফলন পাবো।
কৃষক জিয়াদ আলী বলেন, ইঁদুর গমের অনেক ক্ষতি করে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় তা দমন করা গেছে। গমের বাম্পার ফলনে আর কোনো বাধা থাকলোনা। আমি আশাবাদি।
গবেষক মো. জাহিদ হাসান বলেন, কয়রায় লবণাক্ত এলাকায় গমের ৪টি জাত নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। আশা করছি, বারি গম-২৫ ও বারি গম-৩৩ এর ভালো ফলন হবে।
গবেষণা বিভাগ খুলনার প্রধান ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, কয়রার অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এ সমস্যা উত্তরণের জন্য গম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সেচ এবং সার প্রয়োগ করতে পারলে গম চাষে কৃষক অধিক লাভবান হবেন। আমাদের সাফল্য হচ্ছে, কৃষকদের আমরা গম চাষে আগ্রহী করতে সক্ষম হয়েছি।