শরীরের শান্তির দূত জয়তুনের তেল
যুদ্ধে শান্তির প্রতীক হলো জয়তুনের পাতা এবং মানুষের শরীরের শান্তির দূত হলো জয়তুনের তেল যা অলিভ ওয়েল। আরবিতে জয়তুন যেটাকে তরল সোনা নামেও ডাকা হয়।
গ্রীক সভ্যতার প্রারম্ভিক সময় থেকে এই তেল ব্যবহার হয়ে আসছে, রান্নায় ও চিকিৎসা শাস্ত্রে। আকর্ষণীয় এবং মোহনীয় সব গুণাবলি জয়তুনের তেলে রয়েছে। বাংলাদেশে যদিও জয়তুন তেলের ব্যবহার তেমন নেই।
শুধুমাত্র শীতকালে শরীরে জয়তুন তেল ব্যবহৃত হয়, তাও খুবই কম। এছাড়া খাবারে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। জয়তুন ফলের দামের তুলনায় তেলের দাম আকাশচুম্বী।
জয়তুন তেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে, যেগুলো শরীরকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারে জয়তুনের তেল ব্যবহারের ফলে শরীরের খারাপ ক্লোষ্টোরেল এবং গুড ক্লোষ্টোরেল নিয়ন্ত্রণ হয় ।
জয়তুনের তেল পাকস্থলীর জন্য খুব ভালো। শরীরে এসিড কমায়, যকৃৎ পরিষ্কার করে, প্রতিটি মানুষের ২/৩ দিনে একবার করে দরকার হয়। কোষ্ঠ কাঠিন্য রোগীদের জন্য দিনে ১ চামচ জয়তুন তেল অনেক উপকারী।
সাধারণত সন্তান হওয়ার পর নারীদের পেটে সাদা রঙের স্থায়ী দাগ পড়ে যায় । গর্ভধারণ করার পর থেকেই পেটে জয়তুন তেল মাখলে কোনো জন্মদাগ পড়ে না। এটা পরীক্ষিত।
জয়তুন তেল শরীরে মাখলে বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বক কুঁচকানো প্রতিরোধ হয় । গবেষকরা ২.৫ কোটি লোকের উপর গবেষণা করে দেখিয়েছেন, প্রতিদিন ২ চামচ কুমারী জয়তুন তেল এক সপ্তাহ ধরে খেলে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমায় এবং উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায়।
স্প্যানিশ গবেষকরা দেখিয়েছেন, খাবারে জয়তুন তেল ব্যবহার করলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। আরো কিছু গবেষক দেখিয়েছেন, এটা ব্যথা নাশক হিসেবে কাজ করে।
গোসলের পানিতে এক-চার চামচ ব্যবহার করে গোসল করলে শরীরে শিথিলতা পাওয়া যায়। মেয়েদের রূপ বৃদ্ধির জন্য এটা অনেকটা কার্যকর। ইসলামে জয়তুনের তেল খাওয়া এবং ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (স.) বলেছেন, ‘তোমরা এই তেল খাও এবং তা শরীরে মাখাও।’ ইবনে মাজাহ।
ইবনুল কাইয়্যূম তার বিখ্যাত বইয়ে উল্লেখ করেছেন জয়তুন তেল কোষ্ঠ কাঠিন্য কমায়।
বাজারে কয়েক ধরনের জয়তুনের তেল পাওয়া যায়। যেমন- এক্সট্রা ভারজিন এটা প্রথম ধাপ। সরাসরি জয়তুন ফল থেকে তৈরি। এসিডেটি ১% এর নিচে। রান্নার জন্য বা সালাদে গবেষকরা এটা প্রস্তাব করেন। এক্সট্রা ভারজিন এর পরের ধাপ ভারজিন। এতে এসিডের পরিমাণ ১ থেকে ২% থাকে। রিফাইন পিওর ৩য় ধাপ। এতে এসিডের পরিমাণ ৩ থেকে ৪%।