ঢাকা,  শনিবার   ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

[ খবর ]

প্রতি চার বছর পর জন্মদিন আসে যাদের

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি
প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
প্রতি চার বছর পর জন্মদিন আসে যাদের
ছবি: সংগৃহীত

বয়স বেড়ে যায়, তবে জন্মদিনটি আসে ঠিক চার বছর পর। কতই না রোমাঞ্চকর একটি বিষয়। বলছি, ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপ ইয়ারে যেসব ভাগ্যবানরা জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের কথা। 

আজ লিপ ইয়ার। প্রতি চার বছর পর এই দিনটিতে এসে পৌঁছায় বিশ্ববাসী। তবে এদিন যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তারা যেন সোনায় সোহাগা! কারণ অন্যরা জন্মদিন পালন করে প্রতি বছরে, আর তারা চার বছর অন্তর। অন্যান্যদের চেয়ে তারা নিজেদেরকে ‘বিশেষ’ বলে দাবি করতেই পারেন!

জুলিয়াস সিজার রোমান ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিলেন মিশরীয় সৌর ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে। সেই ক্যালেন্ডার অনুসারেই প্রতি চার বছর অন্তর একটি অতিরিক্ত দিন প্রবর্তন করেন তিনি। যেহেতু পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে ৩৬৫ দশমিক ২৪২১৯ দিন সময় নেয়। তাই প্রতি চার বছর অন্তর দশমিকের পরের সংখ্যাগুলো হিসাব করে অতিরিক্ত ২৪ ঘণ্টার একটি দিন পাওয়া যায়। আর এই দিনটিকেই লিপ ইয়ার বলা হয়। 

সুপারম্যানআর এই বিশেষ দিনটিতে যারা জন্মগ্রহণ করেন তারা লিপিংস, লেপার্স বা লিপস্টার নামক ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। দ্য আটলান্টিক পত্রিকার ২০১৬ সালের তথ্যানুসারে, প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার মার্কিনরা প্রতি চার বছর অন্তর তাদের জন্মদিনটি পালন করেন।

জানেন কি? ছোট বড় সবার স্বপ্নের চরিত্র সুপারম্যানের জন্মও হয় এই লিপ ইয়ারের দিন। শুধু সুপারম্যানই নয় বরং বিশ্বের অনেক নামজাদা ও তারকারাও এদিনটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদেরকে নিয়েই আজকের এই আয়োজন। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক তাদের সম্পর্কে-

আন্তোনিও সাবাতো জুনিয়র (১৯৭২)

আন্তোনিও সাবাতো জুনিয়রজনপ্রিয় রোমান মডেল ও অভিনেতা আন্তোনিও সাবাতো জুনিয়র। তিনি বলেন, আমি নিজেকে সত্যিই সবার চেয়ে আলাদা বলে গণ্য করি। প্রতি চার বছর অপেক্ষা করতে হয় আমার জন্মদিনটি পেতে। আর তাই এই লিপ ইয়ারের দিনটি নিয়ে আগে থেকে অনেক জল্পনা কল্পনা কাজ করে। তবে যাই করি না কেন পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা অবশ্যই আমার সঙ্গে থাকেন। 

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি সোপ অপেরা ‘জেনারেল হাসপাতাল’ এ মূল চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর সায়েন্স ফিকশন সিরিজ আর্থ ২, সিনেমার মধ্যে দ্য বিগ হিট, টেস্টোরেস্টোরেন ইত্যাদিতে অভিনয় করেছেন। তিনি একজন সফল মডেল ও অভিনেতা। পাশাপাশি একাধারে তিনি একজন ডান্সার এবং উপস্থাপক। এই অভিনেতা ২০১৮ সালে মার্কিন কংগ্রেসের হয়ে লড়েছিলেন।

রিচার্ড রামিরেজ (১৯৬০)

রিচার্ড রামিরেজমার্কিন এই ব্যক্তিও লিপ ইয়ারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বিশেষত্ব হলো তিনি একজন সিরিয়াল কিলার। ভাবা যায়! এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তিনি করেননি। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ জনকে হত্যা ও আরো কয়েকজনকে নির্যাতন ও ধর্ষণ করার দায়ে তিনি অভিযুক্ত হন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে পুলিশ গ্রেফতার করেন। অতঃপর ১৯৮৯ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ২০১৩ সালে তিনি কারাগারেই ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। 

জা রুল (১৯৭৬)

জা রুল৪৪ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিক একাধারে র‌্যাপার, গীতিকার, গায়ক, অভিনেতা এবং টিভি তারকা। তার আসল নাম জেফরি আটকিনস। তিনিও লিপ ইয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালে তিনি তার দশম জন্মদিনটি পালন করেন। লাস ভেগাসে জমকালোভাবে তার জন্মদিনটি উদযাপন করা হয়। তার জনপ্রিয় গানগুলো হলো ক্রিস্টিনা মিলিয়ানের সঙ্গে ‘হোল্লা হোল্লা’, ‘বিটুইন ইউ অ্যান্ড মি’, ‘অলওয়েজ অন টাইম’ এবং ওয়ান্ডারফুল। 

টনি রবিনস (১৯৬০)

টনি রবিনসএকজন নামজাদা মোটিভেশনাল স্পিকার ৫০ বছর বয়সী টনি রবিনস। তিনিও প্রতি চার বছর অন্তর নিজের জন্মদিনটি পালন করেন। একাধারে তিনি একজন মার্কিন লেখক, দার্শনিক, উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী। তার কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি হলো- ভূত ও ভবিষ্যত কখনো সমান হয় না, জীবনে উৎসাহ ও অনুৎসাহ দু’টোরই প্রয়োজন রয়েছে, আপনার আজকের নেয়া সঠিক সিদ্ধান্তটিই ভবিষ্যতের পথ মসৃণ করবে।  

আইলিন উউরনোস (১৯৫৬)

আইলিন উউরনোসফ্লোরিডার হাইওয়েতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন আইলিন উওর্নোস। একসময় তিনি সিরিয়াল কিলারে পরিণত হন। মোট ছয় জন পুরুষকে হত্যা করেন তিনি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল অর্থাৎ এক বছরের মধ্যেই তিনি এই ছয়টি খুন করেন। ১৯৯২ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অতঃপর কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শরীরে বিষ ঢুকিয়ে ২০০২ সালের ৯ অক্টোবর তিনি আত্মহত্যা করেন। অভিনেত্রী চার্লিজ থেরন ২০০৩ সালে সিনেমা মনস্টার এই যৌনকর্মীর জীবন কাহিনী পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন। 

সূত্র: বায়োগ্রাফি.কম

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস/টিআরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!