নিলামে উঠেছিল মোনেম মুন্নার একটি জার্সি, বিক্রি হলো দুইটি
নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের সাড়া জাগানো একজন ফুটবলার ছিলেন মোনেম মুন্না। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্য স্বামী মোনেম মুন্নার একটি জার্সি নিলামে দিয়েছিলেন তার স্ত্রী সুরভী মোনেম। তবে ভক্তদের আবদারে তার আরো একটি জার্সি নিলামে বিক্রি করা হলো। একটি বিক্রি হয়েছে তিন লাখ টাকায়। আরেকটি বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকায়। এই সম্পূর্ণ টাকা করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় করা হবে।
শনিবার রাতে ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ নামক ফেসবুক পেইজে এই জার্সি নিলামে তোলা হয়।
মোনেম মুন্না ডিফেন্ডার হিসেবে নব্বইয়ের দশকে মাঠ মাতাতেন। ২০০৫ সালে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। কিন্তু স্বামীর অনেকগুলো স্মৃতি খুব যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন স্ত্রী সুরভী মোনেম। করোনায় মোকাবিলায় সেই জার্সি নিয়ে হাজির হন তিনি।
১৯৮৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে দেশের মাটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ। লাল দলের হয়ে খেলেছিলেন মুন্না। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যের স্মৃতিবিজড়িত জার্সিটি তোলা হয় নিলামে। জার্সিটির নম্বর ২। এই জার্সিটি বিক্রি হয়েছে তিন লাখ টাকায়। কিনেছে বাংলাদেশের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।
নিলামের মাঝেই এক ভক্ত আবদার করেন, আবাহনীর হয়ে খেলা মুন্নার ১৩ নম্বর জার্সিটি যদি তার স্ত্রী নিলামে দিতে রাজি হন তাহলে তিনি কিনতে চান। তিনি মুন্নার একজন বড় ফ্যান। পরবর্তীতে মুন্নার স্ত্রী রাজি হন। ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় দিয়ে জার্সিটি কিনে নেন এইচএসবিসি’র বাংলাদেশের সিইও মো: মাহবুব উর রহমান।
১৯৮৬ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে সিনিয়র লেভেলের ক্যারিয়ার শুরু। একই বছর বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ান ১৮ বছর বয়সী মুন্না। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
এই ডিফেন্ডার পরের বছর আবাহনীতে যোগ দেন। ১৯৯১-১৯৯২ মৌসুমে ভারতের ঘরোয়া ফুটবলেও মাঠ মাতিয়েছেন। কলকাতার ইস্টবেঙ্গলের খেলেন কিং ব্যাক খ্যাত এই তারকা। ১৯৯৭ সালে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে ২০০৫ দেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা এই ডিফেন্ডারের মৃত্যু হয়।