ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

দুঃসাহসিক অপারেশন বেকপা-২ (পর্ব-১)

আফ্রিকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
সজীবুল ইসলাম
প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ২৫ মে ২০১৯
দুঃসাহসিক অপারেশন বেকপা-২ (পর্ব-১)
ফাইল ছবি

দুই দেশ ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্য আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকানে বিদ্রোহী দলের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স (ব্যানএসএফ)।

দক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে দেশটির বিদ্রোহী দল ইউপিসি (ইউনাইট পৌর লা পেইক্স এন সেন্ট্রাফিকা) এর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে ওই এলাকা শত্রুমুক্ত করেন ব্যানএসএফ-৩ এর ক্যাপ্টেন তৌকির আহমেদ। একইসঙ্গে উদ্ধার করেন সেখানকার প্রায় ১৫০ বন্দী সংকটাপন্ন জনগণকে।

যে কারণে যুদ্ধের নির্দেশ-

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকান মধ্য আফ্রিকার মহামূল্যবান খনিজে সমৃদ্ধ একটি দেশ। তারপরেও পৃথিবীর প্রথম ১০টি দরিদ্র দেশের একটি। সেখানকার শাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশটির নিত্যদিনের সঙ্গী। 

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের এই দুর্দশার অন্যতম প্রধান কারণ দেশটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুসংগঠিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র বিদ্রোহী দল। সশস্ত্র দলগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান ও সুসংগঠিত একটি বিদ্রোহী দল হচ্ছে ইউপিসি।

গত ২০১৮ সালের অক্টেবর মাসে ইউপিসি সেন্ট্রাল আফ্রিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর বামবারি অস্ত্রের মুখে দখলে নেয়। বিদ্রোহীরা সেখানে জনগণকে জিম্মি করে অনৈতিক কর, সম্পত্তি দখল, আদেশ অমান্য করলে নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞসহ নানা রকম অত্যাচার অনাচার শুরু করে। বামবারি শহরে তারা জাতিসংঘ ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সরকারের অন্তরায় এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের অন্তরায়। 

বামবারিতে অপারেশন বেকপা-২ এ বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স-৩ দল

সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনী ইউপিসি এর সঙ্গে জাতিসংঘের চলমান মিশন মিনুস্কার সব শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক অভিযানই একমাত্র সমাধানের পথ হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। 

উদ্ভূত সমস্যা নিরসনে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় বামবারি শহরে নিয়োজিত শান্তিরক্ষী বাহিনী, মৌরিতানিয়ান ব্যাটালিয়ন ও নেপাল এইচ আরপিবি কে (হাইলি রেডিনেস প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন); তারা ব্যর্থ হয়। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি এ পর্তুগীজ কুইক রিয়্যাকশন ফোর্স কে বামবারিতে মোতায়েন করা হয় (ফ্রাগো সংযুক্ত)। এ প্রচেষ্টাও সুসংগঠিত ও সুপ্রশিক্ষিত ইউপিসি বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো সফলতা না আসায় ১৪ জানুয়ারি মিনুস্কা ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স কোম্পানি-৩ কে বামবারিতে মোতায়েনের আদেশ দেয়। 

বিএ-৮৬৪০ ক্যাপ্টেন তৌকির আহমেদ ওই অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে কর্তব্যনিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

অপারেশন বেকপা-২

বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স কোম্পানি-৩, ১৪ জানুয়ারি বামবারিতে পৌঁছে। পরের দিন টাস্ক ফোর্স বামবারির ট্যাকটিক্যাল কমান্ডার বিএ-৭৬০১ মেজর মোস্তফা আনোয়ারুল আজীজের অধীনে কার্যক্রম শুরু করে। পরে ব্যানএসএফকে একটি আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয় টাস্ক ফোর্স বামবারি। 

ব্যানএসএফ এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ জানুয়ারি একটি পর্যবেক্ষণ দল এপিসিতে করে অভিযান এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। ওই একই দিনে আরো একটি পর্যবেক্ষণ দল পাকিস্তান এভিয়েশনের এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে আকাশ হতে পর্যবেক্ষণ চালায়। ক্যাপ্টেন তৌকির আহমেদ বিমান পর্যবেক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন ও অভিযান এলাকার খুঁটিনাটি চিত্রসহ অর্জন করতে সক্ষম হন। যা পরবর্তীতে অপারেশন কমান্ডারের পরিকল্পনা প্রণয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। 

বামবারিতে অপারেশন বেকপা-২ এ বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স-৩ দল

পরের দিন ১৭ জানুয়ারি টাস্ক ফোর্স বামবারি একটি ফ্রাগো অর্ডার এর মাধ্যমে বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্স কোম্পানি-৩ কে সশস্ত্র ইউপিসি বাহিনীর দখল থেকে বামবারি শহরকে মুক্ত করার নির্দেশ দেয়। অভিযানটির নামকরণ করা হয় অপারেশন বেকপা-২। 

ওই অভিযানে ক্যাপ্টেন তৌকির আহমেদ অ্যাকশন পার্টি-২ এর কমান্ডার হিসেবে তার দলের সদস্যদের নিয়ে জীবন বাজি রেখে শত্রুর শক্ত ঘাঁটির মধ্যে ঢুকে শত্রু পক্ষকে পিছু হটাতে বাধ্য করেন। এ সময় প্রচুর পরিমাণ গোলাবারুদ ও প্রায় ১৫০ বন্দীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ব্যানএসএফ-৩।

অপারেশন বেকপা-২ চালানোর সময় সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র  ইউপিসি বাহিনীর সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধের বর্ণনা থাকবে পর্ব-২ এ। আক্রমণাত্মক রক্তক্ষয়ী সেই শ্বাসরুদ্ধকর যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!