ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৬ জুলাই ২০২০,   শ্রাবণ ১ ১৪২৭,   ২৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ

মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ২৫ মে ২০২০  

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

‘স্বাধীনতা তুমি কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা’ - শামসুর রাহমান (আজ কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী)।

মহাপুরুষ ও মহান পুরুষ। আপাতভবে একরকম শোনালেও পার্থক্য আছে।

পরের ও জগতের কল্যাণ বা মঙ্গলের জন্য যারা নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন এবং সাধনার দ্বারা বা ঐশী যোগে স্রষ্টা ও সৃষ্টি সম্পর্কে সত্যলব্ধ জ্ঞান অর্জন করেন তাদেরকে মহাপুরুষ বলে। সাধারণভাবে মহাপুরুষগণ আমাদের সময়কালের কেউ নন। যেমন মহাপুরুষ বলতে আমরা অতীতকালের কনফুসিয়াস, গৌতম বুদ্ধ, হজরত দাঊদ (আ.), হজরত মুসা (আ.), হজরত ঈশা (আ.) বা যীশু খ্রিষ্ট, হজরত মোহাম্মদ (স.) প্রমুখদেরকেই বুঝে থাকি। অর্থাৎ আর মহাপুরুষেরা প্রতিনিধিত্ব করেন স্রষ্টা বা কোন বৃহত্তর সত্ত্বার। অপরদিকে মহান পুরুষেরা পূর্ব বা বর্তমান দুই সময়েরই হতে পারেন। আমার মতে, মহাপুরুষদের সাথে মহান পুরুষদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল যে, মহান পুরুষেরা মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করেন। মানুষদের কাজকর্ম, আবেগ অনুভূতি ইত্যাদি নিয়েই তাদের কাজকারবার।

দুইজন মহান পুরুষের সাথে আমি ছেলেবেলা থেকেই পরিচিত। একজন ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর। অন্যজন বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ওরফে দুখু মিয়া।

ঈশ্বর চন্দ্রের কথা ভাবলেই আমার চোখে ল্যাম্প পোস্টের আলোতে নিবিড় পাঠরত এক বালক এবং ঝড়ের রাতে মায়ের ডাকে এক কিশোরের দামোদর নদী অতিক্রম করার দৃশ্য ভেসে উঠে। তিনি ছিলেন উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন। জনপ্রিয় শিশুপাঠ্য বর্ণপরিচয়সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক, সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তিনি। একইসাথে তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। বিধবা বিবাহ ও স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অভিশাপ দূরীকরণে তার অক্লান্ত সংগ্রাম আজও স্মরিত হয় যথোচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে। পিতামাতার প্রতি তার ঐকান্তিক ভক্তি ও বজ্রকঠিন চরিত্রবল বাংলায় প্রবাদপ্রতিম।

অন্যদিকে বর্ধমান জেলার আসানসোলের সেই গ্রাম্য বালকের কথা ভাবতেই আমার চোখে ভাসে হোটেলের বয় হবার ফাঁকে ফাঁকে পড়াশুনা করছে আশ্চর্য এক বালক। পরবর্তীতে যার উত্তরণ ঘটেছিল বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রের এক মহান পুরুষ হিসেবে। ইতিহাসে ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত। কবিতা সৃষ্টিতে তার অনন্য প্রতিভার কারণে ‘ত্রিশোত্তর আধুনিক কবিতা’ সৃষ্টির পথ সহজ হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নজরুলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। রাজনৈতিক মিটিং, মিছিল, সভা ও সেমিনার ইত্যাদিতে যোগ এবং সাহিত্যকর্ম দিয়ে তিনি অবিভক্ত বাংলার পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ ও দেশি-বিদেশি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংগ্রাম করে গেছেন।

আমার জীবনের প্রথম ব্যর্থতা ক্লাস থ্রিতে। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে ছন্দময় কবিতা ‘তালগাছ’ (তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে...” মুখস্ত করা নিয়ে। অদ্ভুত অজানা কারণে কবিতাটা আমার মুখস্ত হচ্ছিল না। কিন্তু সেই সময়ে ক্লাসে কবিতা মুখস্ত করতে পারা আমাদের জন্যে বাধ্যতামূলক ছিল। আমার স্পষ্ট মনে আছে বিশ্ব কবির কবিতাটা যাতে আমাকে মুখস্ত করতে না হয়, সেজন্যে আমার পিতাকে আমার সাথে যেতে হয়েছিল আমাদের প্রাইমারি স্কুলের হেড স্যারের নিকট। তিনি আমাদের ক্লাস টিচারকে বলে দিয়েছিলেন যে, আমাকে যেন এই কবিতাটা কোনদিন মুখস্ত বলতে না বলা হয়।

কিন্তু আমার জীবনের প্রথম সার্থকতা ছিল কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে। তাঁর সেই বিখ্যাত ‘লিচু চোর’ কবিতাটি আমি অঙ্গভঙ্গি সহকারে সর্বাংশে আত্মস্থ করে ফেলেছিলাম। স্কুলে পদার্পণ করার পূর্বেই। ফলে পড়াশুনা শুরু করার আগে থেকেই আমি স্কুলের বিচিত্রা অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র এই কবিতার আবৃত্তি এবং অভিনয় দিয়ে রীতিমত শিশু সেলিব্রিটি বনে গিয়েছিলাম। আমাদের গ্রামের স্কুলে।

১৯৭৭ সাল। তৎকালীন মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজের (বর্তমান মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ) সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছি। নজরুল হাউজ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে আমাদের হাউজের নাম, যেখানে আমি ছয় বছরকাল অবস্থান করব। আমি ভীষণ খুশি সোহরাওয়ার্দী বা ফজলুল হক হাউজে আমাকে না দেয়ার জন্যে। আমাদের হাউজ মাস্টার ভূগোলের মাসুদ হাসান স্যার। হাউজ টিউটর রফিক কায়সার স্যার। হাউজ ক্যাপ্টেন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাবুল ভাই। সহকারী হাউজ ক্যাপ্টেন ফয়সল ভাই। জুনিয়র হাউজ লিডার তাসনিম ভাই। নজরুল হাউজে ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠান হবে। আমাদেরকে বরণ করে নেয়ার জন্যে। আমার ক্লাসমেট নুসরাত (এই নাম একজন বালকের! পুরো নাম শাহেদুল ইসলাম নুসরাত আহমেদ চৌধুরী।) নাচবে রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্তে, কে যে নাচে তা তা থৈ থৈ...’এই গানের তালে তালে। মাকসুদ এই অনুষ্ঠানেই তার ‘মধু মালতি ডাকে আয়’ গান দিয়ে ছয় বছরের জন্যে কলেজে ‘ভিনি ভিডি ভিসি’র মতন বিজয়গাঁথা সুচিত করবে। শাহরিয়ার ঢাকায় ফেলে আসা তার নিঃসঙ্গ মায়ের উদ্দেশ্যে গাইবে ‘মাগো, ভাবনা কেন?... ”, এবং আমি পারফর্ম করব আমার আত্মস্থ করা সেই বিখ্যাত কবিতা অভিনয় সহকারে। লিচু চোর।

অনুষ্ঠান শেষ। আপাতভাবে ত্রুটিহীন। আমরা অংশগ্রহণকারীরা যারপরনাই আনন্দিত। রফিক কায়সার স্যার হাউজ টিউটর হিসেবে অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের সাথে কথা বলছেন। অনুষ্ঠান খুব সুন্দর হয়েছে জানালেন। অতঃপর তাসনিম ভাইকে বললেন, “আসাদের আর্টিকুলেশনে কিছুটা সমস্যা আছে। তাসনিম প্লিজ টেক কেয়ার!” আমার হতবুদ্ধি হবার জোগাড়!

আমাদের বৃহত্তর ময়মনসিংহ –জামালপুর এলাকার মানুষেরা ‘চ’ বর্গের সবগুলো অক্ষরেরই খুব নরম (সফট) উচ্চারণ করে থাকে। কিন্তু তারা কেউই সেটা জানে না। বরং পুরো দেশের ভেতরে তাদের বাঙলা উচ্চারণই সবচেয়ে প্রমিত বলে মনে করে। এমনকি আমাদের স্কুল মসজিদের ইমাম নোয়াখালীর মাওলানা আবুল হাসেমের শব্দ ও উচ্চারণ নিয়ে সর্বক্ষণ হাস্য রসিকতা করে থাকে। তাসনিম ভাই রফিক স্যার চলে যাবার পর তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব দিলেন আমার ক্লাসমেট হাসান আশরাফ মামুন (বাবলা) কে। সে ঢাকা শহরের ছেলে। বাঙলা-ইংরেজী দুটোতেই দুর্দান্ত। তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে লোকচক্ষুর অন্তরালে আমি ‘ওগো বধু সুন্দরী’ চলচ্চিত্রের মৌসুমি ব্যানার্জির মত মাত্র সপ্তাহখানেক সময়ের মধ্যেই শিখে গেলাম বাংলা ভাষার প্রমিত উচ্চারণ। নদীয়া বা নবদ্বীপের মানুষদের মত। কাকপক্ষীও টের পেল না!

কবি তালিম হোসেনের ভাই তৌফিক হোসেন স্যার আমাদের আর্ট টিচার। তবে আর্টের পাশাপাশি অন্যান্য আনন্দের প্রতিও তার প্রবল অনুরাগ। ফলে আর্ট ক্লাসের অর্ধেক সময় আমরা ছবি আঁকার বিভিন্ন বিষয় যেমন মৌলিক ও সেকেন্ডারী রঙ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা অর্জন, ছবি আঁকায় পারস্পেক্টিভ জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা, মায়া সভ্যতার শিকারীরা কিভাবে গুহার দেয়াল ছবি আঁকত ইত্যাদি বিষয় শিখি। অবশিষ্ট সময়ে আমরা তার কাছ থেকে তার সদ্য সমাপ্ত করা কোন গল্প বা উপন্যাস থেকে শ্রুতিকথন শুনি। আমরা যখন অষ্টম শ্রেণিতে তখন তিনি আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের একটি ইউনিক উপন্যাস মনোজ বসু এর ‘নিশিকুটুম্ব’ (১৯৬১)কে। চৌর্যবিদ্যাও যে উপন্যাসের বিষয় হতে পারে এটাই বাংলা সাহিত্যে তার প্রথম নজির। উপন্যাসটিতে বিবৃত হয়েছে সুন্দরবন সংলগ্ন বৃহত্তর যশোর ও খুলনা অঞ্চলের নদী-নালায় ঘেরা জনপদের চোরদের কাহিনী। অপূর্ব কথক আমাদের তৌফিক স্যার। মনের সমস্ত মাধুরী মিশিয়ে আমাদেরকে ক্লাসে শোনান চুরির কাহিনী। প্রতিনিয়ত। মনে মনে আমরা হয়ে উঠি এক এক ‘নিশিকুটুম্ব’। অতঃপর গ্রাম, প্রান্তর, নদী-নালার মধ্য দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্রমশ বড় হতে থাকি। মনে মনে এই চুরিবিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠাল চুরির পরিকল্পনা করি প্রতিরাতে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে।

আমার জীবনের একটা আনুষঙ্গিক অর্জন হল এই দুই বছরে আমি কিছু ছবি আঁকা শিখে গেছি। প্রথমবার আঁকলাম গ্রামের বাড়িতে আমাদের ঘরে অর্ধেক স্থান দখল করে রাখা একটি প্রায়ান্ধকার মাচার দৃশ্য। পুরো মাচা জুড়ে রাখা আছে অনেকগুলো বড় বড় মাটির পাতিল। আমরা বলি জালা। অনেকগুলো জালার মধ্যে একটি বাঁশের তৈরি ধানের গোলা। আমরা একে ‘বেড়’ নামে ডাকি। মজার ব্যাপার হল আমি মাটির তৈরি জালাগুলোকে ভাবতাম ‘আলীবাবা ও চল্লিশ চোর’ গল্পের তেলের পিপার মত, যার মধ্যে চল্লিশ চোর লুকিয়েছিল। আন্ত হাউজ ‘আর্টস এন্ড ক্র্যাফট’ প্রতিযোগিতায় আমি এই মাচার দৃশ্যই আঁকলাম। পেন্সিল সেচ। তৌফিক স্যার ছবিটার নাম দিলেন ‘হাঁড়িকুঁড়ি’। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করল। আমি ভীষণ খুশি। পরের বার আঁকলাম আমাদের বাড়ির উত্তর প্রান্তের তালগাছের তলে অবস্থিত পগারের জলের কচুরিপানার। বৃষ্টির পর একটা পাতার উপরে অনেকগুলো বৃষ্টির জলের ফোঁটা জমে আছে। চিত্রটার নাম তৌফিক স্যার দিলেন ‘মুহূর্তের ভাষ্য’। এবারে প্রথম পুরস্কার। মূহুর্তের ভেতরেই আমি শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে গেলাম। ফুটবল খেলার ব্যাক বা ভলিবলে লিফটার হিসেবে আমার অর্জিত ইতিপূর্বের সকল গৌরব ম্লান হয়ে গেল।

সম্ভবত আমরা তখন দশম শ্রেণিতে। তৌফিক স্যারের পরিচালনায় আমাদের ক্লাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্পের উপরে ভিত্তি করে একটা নাটক মঞ্চস্থ করবে। তৌফিক স্যার গল্পটির নাট্যরূপ দিয়েছেন। সেখানে তিনি একটি কাল্পনিক চরিত্রের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন। একটি সন্ন্যাসীর চরিত্র। তৌফিক স্যার আমাকে বললেন এই চরিত্রে অভিনয় করতে। তৌফিক স্যারের ছেলে অভিনয় করবে খোকাবাবুর ভূমিকায়। নাটক ছাড়াও অনুষ্ঠানটির অন্য একটি অংশ থাকবে। সেটা সঙ্গীতানুষ্ঠান। তৌফিক স্যারের দুই ভাতিজি বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পী পারভিন মুস্তারী ও শবনম মুস্তারী সেখানে নজরুল গীতি পরিবেশন করবেন। পুরো অনুষ্ঠানের জন্যে একটা ব্যাকস্টেজ হবে। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের একাডেমিক ব্লকের একটি জ্যামিতিক চিত্র (প্যানারমিক ভিউ)। ওটা তৌফিক স্যারের আঁকা। কলেজ বার্ষিকীতে প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ওটাকে কয়েক’শ বা হাজার গুণ বড় করে স্টেজের পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এটা আঁকার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আমাদের উপরের ব্যাচের রফিক ভাই এবং আরো কয়েকজনকে। আমি আর আমার ক্লাসমেট ওয়াহিদ দায়িত্ব পেয়েছি কবি কাজী নজরুল ইসলামের যৌবন দীপ্ত বাবরী দোলানো সেই ছবি আঁকার। এটা পটভূমির উপরে স্থাপন করা হবে। দুঃখজনক হল সকল প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন করার পরেও অনুষ্ঠানটি কোন কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা সবাই চলে গিয়েছিলাম টার্ম এন্ড ছুটিতে। সবচেয়ে দুঃখজনক হল ছুটি শেষে ফিরে আসার পর আমরা জেনেছিলাম যে, তৌফিক স্যারের ছেলেটা সামান্য কয়েকদিনের জ্বরে মরে গিয়েছে। যেমন করে আজকের করোনা আক্রান্ত রোগীরা মরে যায়, মাত্র চৌদ্দ দিনের ব্যবধানে।

২০০৫ অথবা ২০০৬ সাল। বর্তমান থেকে এক যুগ আগের কথা। আমি আমার বন্ধু ও ক্লাসমেট সাহেলকে নিয়ে গিয়েছি কলেজের পুনর্মিলনই অনুষ্ঠানে। নজরুল হাউজের বাইরের দেয়ালে কবি নজরুলের ঢাউস আকৃতির একটা পোট্রেট দেয়ালের সাথে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। একাডেমিক ব্লক থেকেও দেখা যায়। সাহেল ভীষণ অবাক। জিজ্ঞেস করে , “আসাদ, এটা তোর আঁকা সেই পোট্রেটটা না?”

কলেজে প্রত্যাবর্তনের আনন্দে সে ভুলেই গিয়েছে যে, মাঝখানে প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত। এত বছর পর সেই ছবি থাকার কথা নয়। হয়ত আমারই মত ভালবেসে বর্তমান সময়ের কোন অষ্টম বা নবম শ্রেণির ক্যাডেট তা এঁকেছে। সময় কীভাবে চলে যায়!

(সমাপ্ত)

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে