জেলখানার মতো জীবনযাপন করতেন পাইলটরা
বাংলাদেশের ক্রিকেট আজকের অবস্থানে আসার পিছে যে কয়জন কোচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাদের মাঝে একজন গর্ডন গ্রিনিজ। ক্যারিবীয় এই কোচের অধীনেই ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। মূলত কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে শিষ্যদের ট্রেনিং দিতেন তিনি, যাকে জেলখানার মতো জীবনযাপন করা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন গর্ডন গ্রিনিজ। মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে এক লাইভ সেশনে যোগ দেন গ্রিনিজের শিষ্য আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও খালেদ মাসুদ পাইলট। সেখানে কোচের ব্যাপারে নানা কথা বলেন পাইলট।
মঙ্গলবারের লাইভে পেছনে ফেলে আসা অতীত নিয়ে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের ব্যাপারে জানতে চান তামিম। এই ট্রফি জয়ের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছিলেন খেলোয়াড়রা। তবে এর পেছনে মূল কারিগর ছিলেন গ্রিনিজই।
কোচ হিসেবে গ্রিনিজের অবদান কত বেশি তা উল্লেখ করতে গিয়ে পাইলট বলেন, ‘ভালো খেলার জন্য যে ভালো ট্রেনিং দরকার, সেটা গ্রিনিজ আমাদের শিখিয়ে গেছেন। উনি তো আর্মিদের মত ট্রেনিং করাতেন। ভোর ৫টা মানে সূর্য ওঠার আগেই আমাদের মাঠে নিয়ে যেতেন। এরপর ৭টা পর্যন্ত ফিটনেস ট্রেনিংয়ে দৌড়িয়ে নিয়েছেন। এমন ট্রেনিং করাতেন সবার শরীরে ব্যথা হয়ে যেতো।’
পাইলট আরো যোগ করেন, ‘এরপর ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ব্যাটিং-বোলিং করে আবার চারটার দিকে ফিল্ডিং করতে আরেকটা প্র্যাকটিস সেশন। বলা যায় পুরো দিনের আলোটাকে তিনি কাজে লাগাতেন। আমাদের ছুটি ছিল একদিন। বৃহস্পতিবার রাতে আমরা বিকেএসপি থেকে ঢাকা আসতাম, আবার শুক্রবার রাতেই বিকেএসপি ফিরে যাওয়া। একদম জেলখানার মত জীবনযাপন ছিল।
তবে এই কষ্টের ফলেই ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় করে বাংলাদেশ, যা এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বড় সাফল্য। কষ্ট করলে যে কেষ্ট মেলে তা তখনই বুঝেছিলেন ক্রিকেটাররা।