মোখলেসুর জানান, ১১৭টা হাঁস নিয়ে ২০১০ সালে নিজ বাড়িতে খামার করেন তিনি। হাঁসগুলোকে নিয়ে সারাদিন আশপাশের বিলে ঘুরে বেড়াতেন আর খাবার খাওয়াতেন। সন্ধ্যায় বাড়িতে এনে ধান খাইয়ে হাঁসগুলোকে ঘরে তুলতেন। কিছুদিনের মধ্যেই হাঁসগুলো ডিম দিতে শুরু করে। প্রতিদিন ৭০-৮০টি ডিম পেতেন তিনি। যা বিক্রি করে খরচ বাদে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হতো।
তিনি আরো জানান, প্রথম বছরে ১১৭টি হাঁস থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। পরবর্তীতে এনজিও থেকে আরো কিছু টাকা ঋণ নিয়ে আরো ৫শ’ হাঁস কেনেন। কিন্তু এতগুলো হাঁস রাখার জায়গা না থাকা ও বিলে খাবার কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন মোখলেসুর। পরে হাঁসগুলো নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে বেড়ানো শুরু করেন।
.png)
বর্তমানে মোখলেসুর বদলগাছীর ছোট যমুনা নদীর চরে নেট দিয়ে হাঁসের ঘর তৈরি করেছেন। এখানে তার ১০১৫টি ক্যাম্পবেল জাতের হাঁস রয়েছে। তিনি বলেন, হাঁসের প্রধান খাবার হলো শামুক ও ঝিনুক। নদীতে পানি কম থাকায় হাঁসগুলো সহজেই নদী থেকে খাবার খেতে পারে। তাই খাবারের জন্য আমাকে বাড়তি খরচ করতে হয় না। হাঁসগুলো সারাদিন নদীতেই খাবার খায়। সন্ধ্যায় ঘরে তুলে ধানের সঙ্গে সামান্য ফিড মিশিয়ে খেতে দেই।
মোখলেসুর বলেন, ১০১৫টি হাঁসের জন্য প্রতিদিন তিন মণ ধান আর ওষুধ বাবদ গড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ডিম পাচ্ছি ৬০০-৬৫০টি। যা থেকে আয় হয় প্রায় আট হাজার টাকা। কয়েকদিনের মধ্যে ডিমের পরিমাণ বেড়ে হবে ৭৫০-৮০০ টি। তখন আয় হবে ১০ হাজার টাকার বেশি। টানা ৬-৮ মাস ডিম দেবে হাঁসগুলো। হ্যাচারি থেকে প্রতিটি ডিম ১২ টাকা করে কিনে নিয়ে যায়।
মোখলেসুর আরো বলেন, খামারের দুইজন কর্মচারীকে তিনবেলা খাইয়ে প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা বেতন দিচ্ছি। দুই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে আমার সংসারে এখন আর অভাব নেই। চাকরির চেয়ে হাঁস পালন করা অনেক ভালো।
বদলগাছী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, ভ্রাম্যমাণ হাঁস পালন খুবই লাভজনক। এতে খরচ কম। হাঁস পালনে আমরা সবসময়ই বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করি। খামারিদের সব সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও পরামর্শ দিচ্ছি।