Alexa কিশোরীদের আলোর পথ দেখাচ্ছে আরডিআরএস

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

কিশোরীদের আলোর পথ দেখাচ্ছে আরডিআরএস

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৯ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুরে এনজিও আরডিআরএস’র দেখানো পথে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীরা। সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতে তাদের আশ্রয় দিয়েছে আরডিআরএস।

আরডিআরএস’র আশ্রয় ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র আলোর ভুবন থেকে ১০ বছরে জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, জামালপুরের ৩২৬ জন কিশোরী।

এমনই একজন লালমনিরহাট সদরের কলমীপাড়ার মাজেদা বেগম। তিনি বলেন, বাবা-মা ঢাকায় থাকেন। আমি ভাই-বোন নিয়ে চাচার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিলাম। ২০১৮ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই লালমনিরহাট শহরের ডালপট্টির মোস্তফা মিয়া মিলনের সঙ্গে বিয়ে হয় আমার। বিয়ের পরদিনই স্বামী আমাকে রেখে ঢাকায় চলে যান। এছাড়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। আমার স্বামী মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতেন। বিয়ের ৯ মাস পর তাকে তালাক দিয়ে আলোর ভুবনে আসি। এখানে সেলাই, মোমবাতি তৈরিসহ বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আমি স্বাবলম্বী।

দিনাজপুরের বিরলের মাধববাটি গ্রামের শারমিন আক্তার বলেন, ২০১৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় হোটেল ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয়। মাদকাসক্ত স্বামী দিনের পর দিন আমাকে নির্যাতন করতেন। এরই মধ্যে আমাদের একটি ছেলে হয়। কিন্তু নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে তাকে তালাক দেই। পরে আলোর ভুবন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির বুলবুলি আক্তারও বাল্যবিয়ে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আলোর ভুবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

শুধু মাজেদা, বুলবুলি, শারমিন, সুচিত্রা নন। তাদের মতো বাল্যবিয়ের শিকার আরপিনা বেগম, তাসলিমা খাতুন, মৌসুমি আক্তার, বিলকিস খাতুন, আম্বিয়া খাতুন, মোসলেমা খাতুন, মালা খাতুন, ফেরদৌসী বেগম, মুনমুন আক্তার, খালেদা আক্তার, স্বপ্না খাতুনকে আলোর পথ দেখাচ্ছে আরডিআরএস ও আলোর ভুবন।

আরডিআরএস’র প্রশিক্ষক শাকিলা বেগম বলেন, আমরা ভাগ্য বিরম্বনার শিকার কিশোরী-তরুণীদের নিজস্ব কর্মীর মাধ্যমে ব্লক-বাটিক, হস্ত ও কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এছাড়া তাদের স্বাবলম্বী হতে উৎসাহ দিচ্ছি। লেখাপড়ার সুযোগ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর