রাজবাড়ীতে প্রাথমিকের ১৩১ শিক্ষকের নিয়োগ স্থগিত
নারী কোটা যথাযথ নিয়মে পালন না করার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ঘোষিত রাজবাড়ীর ১৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সব ধরণের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ১৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
বুধবার রাত ৯টায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের উকিল নোটিশ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোবাশ্বের হাসান।
মামলার রিট আবেদনকারী চাকরি প্রার্থী রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পাট্রা গ্রামের তাছলিমা সুলতানা বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী রাজবাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬০% নারী কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি। ১৩১ জন শিক্ষক নিয়োগের মধ্যে ৭৯ জন নারী কোটায় নিয়োগ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজবাড়ীতে নিয়োগ কর্তারা ৭৯ জনের মধ্যে মাত্র ৫৮জন নারী প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছেন। যা নির্ধারিত কোটার চেয়ে ২১ জন কম।
এ সময় তিনি আরো বলেন, কোটা সংরক্ষণ না করায় আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ১৩১ জন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোবাশ্বের হাসান বলেন, এ ব্যাপারে একটি উকিল নোটিশ পেয়েছি। যাদের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে তাদের আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারিতে যোগদান করার কথা। এখন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বলতে পারছি না।
২০১৮ সালের জুলাই মাসের ৩০ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের আলোকে অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর রাজবাড়ী জেলায় ১৩১ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য ফলাফল প্রকাশ করে। সেই ফলাফলে নারী কোটা সংরক্ষণ না করার অভিযোগে রিট করেন চাকরি প্রত্যাশী নারী প্রার্থী তাসলিমা সুলতানা।