ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মৌ চাষে বেড়েছে সূর্যমুখীর ফলন

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১৭:২০, ২০ এপ্রিল ২০২০
মৌ চাষে বেড়েছে সূর্যমুখীর ফলন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমাউল্যা ইউপির চর বজলুল করিম গ্রামে দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদের সমারোহ। গ্রামের মাঠজুড়ে আবাদ হয়েছে সূর্যমুখী। প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী থেকে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। মধু সংগ্রহের কারণে সূর্যমুখীর ফলনও বেড়েছে।

সুবর্ণচরের ওই গ্রামে মৌচাষি দিয়ে সূর্যমুখী ক্ষেতের পাশে মৌ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলায় প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ক্ষেতে মৌ চাষের নান্দনিক দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ।

কৃষক, মৌচাষি ও উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গত মৌসুমে সুবর্ণচরের লোনা মাটিতে সূর্যমুখীর আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন। গত বছর কৃষকরা লাভবান হওয়ায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯৩ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেন তারা।

এ ক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে প্রত্যেক কৃষককে সার, বীজ ও আগাছা পরিষ্কারের খরচ প্রদানসহ কারিগরি সহায়তা দেয়া হয়েছে। এবার সূর্যমুখীর আবাদ বেশি হওয়ায় ফলন বাড়াতে প্রথমবারের মতো কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের অধীনে মৌ চাষের প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে।

মৌ চাষ প্রক্রিয়ার শুরুতেই চর বজলুল করিম গ্রামের কৃষক খাজা আহম্মদের ১৫ একর সূর্যমুখীখেতে মধুর জন্য মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। সূর্যমুখীর পরাগায়ন থেকে মধু সংগ্রহ করে থাকে মৌমাছি। ফলে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে ও পাওয়া গেছে বাড়তি মধু।

প্রতিটি বাক্সে মাত্র একটি রানী মৌমাছি থাকে। মধু আহরণে কাজ করে ১৫-২০ হাজার শ্রমিক মৌমাছি। সূর্যমুখীর ক্ষেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে ফুলের পরাগায়নে ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। এতে সূর্যমুখীর ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। মৌ চাষের কারণে এবার ওই গ্রামে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান কৃষক খাজা আহম্মদসহ আশপাশের কৃষকেরা।

জানা যায়, এবার ঢাকার সাভারের ধামরাই কালামপুরের মৌ চাষি এবং মধু ব্যবসায়ী মো. এবাদুল্লাহ আফজাল সুবর্ণচরের চর বজলুল করিমে সূর্যমুখীখেতে পরীক্ষামূলকভাবে ১২৪টি মৌ বাক্স বসান। এরমধ্যে ৭টি মৌ বাক্স পরিবহনগত সমস্যায় মারা গেছে। বাকি ১১৭টি মৌ বাক্স থেকে মাত্র এক সপ্তাহে ১০০ কেজি মধু আহরণ করেন তিনি। এ মধু আহরণে কাজ করেন ৬ জন মৌ চাষি। শুরুর দিকে ওই গ্রামের কৃষকেরা ফলন নষ্ট হবে ভেবে তাদের আবাদি জমিতে মৌ বাক্স বসাতে আতঙ্কিত হলেও ফলন ভালো হওয়ায় এখন তারা অনেকটা ফুরফুরে রয়েছেন।

মৌ চাষি মো. রুবেল ও শ্রী রাজু প্রার্চি বলেন, শুধু সূর্যমুখীই নয়, মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের বরিশস্যের ফলন বৃদ্ধি করে। একটি বাক্সের মৌমাছি সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে মধু আহরণ করতে গিয়ে ফুলে ফুলে পরাগায়ন ঘটায়।

১১৭টি বাক্স থেকে সংগ্রহকৃত ১০০ কেজি মধুর বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। মৌ চাষের কারণে একদিকে যেমন সূর্যমুখী উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অল্প খরচে  মৌ চাষ করে দূর হবে বেকারত্ব।

সুবর্ণচর উপজেলার চর আমাউল্যা ইউপির চর বজলুল করিম গ্রামের কৃষক খাজা আহম্মদ বলেন,  চলতি মৌসুমে তিনি ১৫ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। সার, বীজ ছাড়া এতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করায় গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে বিক্রি হবে প্রায় ৭ লাখ টাকা। চরের লোনা মাটিতে সূর্যমুখী চাষে লাভের মুখ দেখচ্ছেন তিনিসহ আশপাশের কৃষকেরা।

মৌ চাষি এবং মধু ব্যবসায়ী মো. এবাদুল্লাহ আফজাল বলেন, সুবর্ণচরে সূর্যমুখীর খেতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে মৌ চাষ করা হয়েছে। ওইখানে স্বল্প সময়ে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে মধু সংগ্রহ হয়েছে। লাভও হবে ভালো। আগামীতে পুরো উপজেলা জুড়ে মৌ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের সার, বীজ ও আগাছা নিধনের খরচ প্রণোদনা দিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯৩ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে। সূর্যমুখীর ফলন বাড়াতে এখানে মৌ চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এখানকার মধু ভেজালমুক্ত। প্রথমবারে মৌ চাষের সাফল্যের কথা শুনে ও মৌ চাষ দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আগামীতে সুবর্ণচরে আরো ব্যাপকভাবে সূর্যমুখীর আবাদের সঙ্গে মৌ চাষ হবে এমনটাই আশা করছেন এ কর্মকর্তা।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!