নির্ভয়ার ধর্ষকদের ফাঁসি দিলেই মেয়ের বিয়ে হবে
ভারতের দিল্লিতে চলন্ত বাসে প্যারামেডিকেলের ছাত্রী নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে ২২ জানুযারি। আর ফাঁসির পরোয়ানা কার্যকরের জন্য পবন জল্লাদকে বাছাই করেছে প্রশাসন। এ চারজনের ফাঁসি দিলেই পবন পাবেন ভালো অংকের টাকা। এতে আটকে থাকা মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন তিনি।
জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২২ জানুয়ারি ফাঁসির দড়িতে নির্ভয়ার চার ধর্ষককে ঝোলানো হবে। তাদের নিজ হাতে ফাঁসি দিতে দেশ-বিদেশের অনেকে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন চাটার্ড অ্যাকাউনটেন্ট ও অ্যাডভোকেট। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুই নাগরিক চার ধর্ষকের ফাঁসি দিতে আবেদন করেন। তাছাড়া দিল্লি, গুরগাঁও, মুম্বাই, ছত্তিশগড়, ভোপাল, কেরালা, তামিলনাড়ু থেকে অনেক আবেদন জমা পড়ে। তবে প্রশাসন বাইরের কারো সাহায্য নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। প্রয়োজনে জেলের কোনো পুলিশ দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। পরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবন জল্লাদকে ফাঁসি কার্যকরের জন্য বাছাই করা হয়।
জানা গেছে, পবন জল্লাদের পাঁচ মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে চার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। শুধু টাকার অভাবে বাকি এক মেয়ের বিয়ে আটকে আছে। তাই নির্ভয়ার এক ধর্ষককে ফাঁসি দিলে ২৫ হাজার টাকা পাবেন পবন। এতে চার ধর্ষকের ফাঁসি দিলে এক লাখ টাকা আয় করবেন তিনি। সেই টাকায় মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন এ জল্লাদ।
পবন জল্লাদ বলেন, আমি প্রতিমাসে জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাই। সামনে ছোট মেয়ের বিয়ে। কিন্তু হাতে টাকা নেই। ওই চার ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝোলাতে পারলেই এক লাখ টাকা পাব। তা দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে পারব। যদি ফাঁসির তারিখ পেছায়, তবে মেয়ের বিয়ের তারিখও পেছাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে চারজনের ফাঁসি কার্যকর করতে পারা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের হবে।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের এক প্যারাম্যাডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই সময় নির্যাতন করা হয় ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ছেলে বন্ধুকেও। পরে ওই ছাত্রীকে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে গুরুতর আহত ছাত্রীকে ১৩ দিন ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। এরপর পুরো ভারতসহ বিশ্বে ঘটনাটি আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর জেরে নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচার দাবিতে নানা জায়গায় মিছিল ও সভা হয়। আর ওই ঘটনার মামলা নির্ভয়া কেস প্রতীকী নামে পরিচিতি পায়।