অভিনব কায়দায় প্রতারণা
সাতক্ষীরায় অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রকোপ বেড়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বাইরে আসতেই অপরিচিত ব্যক্তির ডাকে সাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেকেই।
শহর জুড়ে সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও এই অভিনব প্রতারণার কাছে হার মানছে সিসি টিভির ফুটেজও। ফলে বাড়ছে প্রতারক চক্রের সাহসী মনোভাব পাশাপাশি সাধারণ জনগণ হারাচ্ছে মানুষের প্রতি আস্থা।
সম্প্রতি জেলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই প্রতারক চক্র মরিয়া হয়ে উঠলেও এ বিষয় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চোখে পড়ার মত তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
গত বৃহস্পতিবার ওই প্রতারক চক্রের শিকার হয়ে আড়াই লাখ টাকা খুইয়েছেন সদর উপজেলার দহাকুলা এলাকার তমীজউদ্দিন সরদারের ছেলে (মেসার্স হিজবুল্লা রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী) হাফেজ মো. শহিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে হাফেজ শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা শহরের ইসলামী ব্যাংক থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক থেকে বাইরে এসে শহিদুল ইসলাম তার পরিচিত ব্যক্তির কাছে সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা একটি ব্যাগে করে তার নিজের মোটরসাইকেলের হাতলে ঝুলিয়ে রাখেন।
শহিদুল ইসলাম পাঞ্জাবির পকেট থেকে মোটরসাইকেলের চাবি বের করার সময় পেছন থেকে অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে বলে আপনার পকেট থেকে টাকা পড়ে গেছে। এ সময় শহিদুল ইসলাম মাটিতে তাকিয়ে কিছু টাকা পড়ে আছে দেখে বলেন এ টাকা আমার না। তখন অপরিচিত লোকটি তাকে বলে আমি দেখলাম আপনার পাঞ্জাবির পকেট থেকে টাকা পড়েছে। এমন সময় শহিদুল ইসলাম তার মোটরসাইকেলের দিকে তাকিয়ে দেখেন সেখানে তার টাকার ব্যাগটি নেই।
মুহূর্তেই আবার পেছনে তাকিয়ে দেখেন সেই অপরিচিত লোকটিও নেই।
এ ঘটনায় হাফেজ শহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ঘটনার রহস্য উৎঘাটন হবে বলে জানান তিনি।
গত বছরের ১৫ অক্টোবর সাতক্ষীরা পোস্ট অফিস থেকে শহরের রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ার রোজিনা খাতুনের নিকট থেকে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র টাকা ভাঙানোর কথা বলে চেতনা নাশক কীট ব্যবহার করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও শহরের ও উপজেলার কয়েকটি স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় বিশ্বস্ত সূত্র।