ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

স্বামী সন্তানকে মনে করতেই কেটে গেল ১২ বছর

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৮ অক্টোবর ২০১৯
স্বামী সন্তানকে মনে করতেই কেটে গেল ১২ বছর
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের জীবনের একটি ছোট ঘটনাই অনেক বড় দূরত্ব তৈরি করতে পারে। এমনকী সবকিছু তছনছ করে দিয়ে জীবন ওলট পালট পর্যন্ত করে দিতে পারে। তেমনি একটি ঘটনার শিকার হয়ে সংসারের পরিবার পরিজন সবাইকে ছেড়ে মানসিকভাবে অনেক দূরে চলে যান মনোয়ার বেগম নামে এক অসহায় নারী। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে করেন ভবঘুরে জীবন যাপন। এভাবেই কেটে যায় দীর্ঘ ১২টি বছর। অদৃষ্টের লীলা খেলা! এরই মধ্যে মনোয়ারা বেগম হারানো স্মৃতি অনেকটাই ফিরে পান। এখন তার প্রাণের একটাই আকুতি তিনি ফিরে যেতে চান হারানো স্বজনদের কাছে।

২০১৫ সালে নিজের অজান্তে পথ ভুলে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝামঝি মুসল্লি বাড়ি নামক স্থানে ঘোরাঘুরি করছিলেন মনোয়ারা বেগম। তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউপির বাসিন্দা হারুন সরদারের স্ত্রী খাদিজা বেগম। অসহায় এই নারীকে নিজের কাছে নিয়ে আশ্রয় দেন তিনি। আশ্রয়দাতা খাদিজা বেগম পেশায় একজন নারী কবিরাজ হিসেবে পরিচিত।

খাদিজা বেগম জানান, তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনতে পান প্রায় একযুগ ধরে মনোয়ারা এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেছেন। নিজের অজান্তেই চলে আসেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলায়। স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।

তিনি আরো জানান, আশ্রিত মনোয়ারা খুব শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। তার কাছে পরিচায় জানতে চাইলে তিনি তখন তেমন কিছুই বলতে পারেননি। আমি বুঝতে পারি তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এরপর কবিরাজি বিদ্যা দিয়ে তার চিকিৎসা করি। আমার ভালো লাগছে যে, সে এখন অনেক কিছু মনে করতে পারছেন। তবে আমার আরো বেশি ভালো লাগবে মনোয়ারা খালাকে আপন ঠিকানায় (পরিবারের কাছে) পৌঁছে দিতে পারলে। গত ৪-৫ বছরের চেষ্টায় এখন খালা প্রায় সুস্থ। তবে তিনি এখনো তার বাড়ির ঠিকানা বলতে পারছেন না।

মনোয়ারা বেগম বলেন, ফুলতলা তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাবার পথে তিনি হারিয়ে যান। তার স্বামী মান্নান ড্রাইভার (গাড়িতে মালামাল টানে), বাবার নাম ইয়াদ আলী, ভাই দারোব আলী, শ্বশুর আব্দুল রশীদ মুন্সি। তিনি তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মা। ছেলেদের নাম আশকার ও সেলিম। মেয়ে ভানু, ছালমা ও শিল্পী। আমার বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি একই এলাকায়। ওই এলাকার ইউপি মেম্বারের নাম সিমান। 

তিনি আরো বলেন, তার বাড়ির সামনে জামতলার হাট নামক একটি বাজার আছে। এলাকার পরিচিত লোক হিসেবে চিনেন কোবার অথবা কবির নামের এক ডাক্তারকে। তিনি এখন ফিরতে চান তার আপন গ্রামে। তার পরিবারের কাছে। কাছে পেতে চান তার স্বামী-সন্তানকে। কিন্তু তিনি জানেন না তার স্বামী-ছেলে মেয়েরা কে কোথায় আছে।

মনোয়ারা বেগম আরো জানান, তার ছেলে-মেয়ের কথা অনেক মনে পড়ে। বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে। মনে পড়লে কষ্ট হয়, কান্না করেন। চিকিৎসায় সে এখন অনেকটাই সুস্থ। অচেনা এ এলাকায় আর এক মুহূর্ত থাকতে চান না তিনি।

 মনোয়ারার দেয়া তথ্যানুযায়ী অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, জামতলার হাট ও সিমান নামে ওই মেম্বরের বাড়ি রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউপিতে। বোনের বাড়ি ফুলতলা নামক স্থানে বেড়াতে গিয়ে হারিয়েছে , সেটা রাজবাড়ী সদর থানার খানখানাপুর ইউপির একটি স্থান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!