ব্রাজিলে অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ করলেন লুলা
ব্রাজিলে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংসহ ‘স্থির-অডস’ বা নির্দিষ্ট মুনাফাভিত্তিক বেটিং নিষিদ্ধ করেছেন প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তিনি এ বিষয়ে একটি অস্থায়ী নির্বাহী আদেশ জারি করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারগুলোকে ঋণ ও বেটিং আসক্তির ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লুলা সাও পাওলোতে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ‘কঠিন, দ্রুত ও প্রয়োজনীয়’ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও তিনি বেটিং শিল্পের সমালোচনা করে আসক্তি থেকে মুনাফা করার অভিযোগ করেন।
.png)
নতুন আদেশের ফলে স্থির-অডস বেটিংয়ের পরিচালনা, অফার, মধ্যস্থতা ও বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে বেটিং অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ৫ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে প্ল্যাটফর্মগুলো বন্ধ এবং অবশিষ্ট অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।
অস্থায়ী আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অনুমোদন না পেলে এটি কার্যকর থাকবে না। পাশাপাশি স্থির-অডস বেটিং প্রচার এবং ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করাসহ কিছু কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য আলাদা একটি বিলও তৈরি করেছে সরকার।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। লুলার প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো এটিকে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ অভিযোগটি ফ্লাভিওর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রাজিলে জুয়া ঐতিহাসিকভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমেরের সময়ে অনলাইন স্পোর্টস বেটিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে জাইর বলসোনারোর শাসনামলে এ খাত দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লুলার সরকার বেটিং কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও করের আওতায় আনে। পরে অনিয়মিত দুই হাজারের বেশি বেটিং ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়।
বেটিংয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও উঠে এসেছে। ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, দেশটির মানুষ প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন রিয়াইস পর্যন্ত অনলাইন বেটিংয়ে ব্যয় করছিলেন।
বেটিং খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের হিসাবে, ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং থেকে বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতো। দেশটির বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবও বেটিং কোম্পানির স্পনসরশিপ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
সরকারের সিদ্ধান্তে বর্তমানে বেটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন গেমিংয়ের কিছু ধরনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। তবে আগে থেকে আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অন্যান্য লটারি এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।