ইউএস ওপেনে চ্যাম্পিয়ন: হ্যাটট্রিকের স্বপ্নভঙ্গ সাবালেঙ্কার
ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল আরিনা সাবালেঙ্কার । স্থানীয় সময় শনিবার ফাইনালে এলেনা রিবাকিনার কাছে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হেরে গেছেন এই বেলারুশিয়ান তারকা। নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোজে টানা তিন শিরোপা জেতার চাপই যে মাঠের আবেগ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ম্যাচ শেষে অকপটে তা স্বীকারও করে নেন তিনি। খবর রয়টার্সের।
উত্তেজনায় ঠাসা ফাইনালজুড়ে বিজয়ী রিবাকিনা যেখানে নিজের চিরাচরিত শান্ত ভাব বজায় রেখেছিলেন, সেখানে সাবালেঙ্কা দু-দুবার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটান। ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার মুহূর্তে মেজাজ হারিয়ে একবার গ্যালারিতে বল ছুড়ে মারেন, পরে নিজের র্যাকেটও ভেঙে ফেলেন। সংবাদ সম্মেলনে নিজের আবেগ সামলাতে না পারার ব্যাখ্যায় সাবালেঙ্কা বলেন, ‘গ্র্যান্ডস্লাম ফাইনালে হেরে যাওয়া এবং টানা তৃতীয় শিরোপার এত কাছে এসে ব্যর্থ হওয়ার পর আবেগ ধরে রাখা সত্যিই কঠিন।
আমি কেবল নিজের ভেতরের রাগটা বের করে দিতে চেয়েছিলাম। কারণ তা না করলে একটা কথাও বলতে পারতাম না, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।’ সাবালেঙ্কার জোরালো শটগুলো চতুরতার সঙ্গে সামলে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে নিজের প্রাধান্য বিস্তার করেন রিবাকিনা। শেষ সেটে আধিপত্য দেখিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় গ্র্যান্ডস্লাম এবং ফ্লাশিং মেডোজে প্রথম শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন তিনি।
.png)
প্রতিপক্ষের প্রশংসায় সাবালেঙ্কা বলেন, ‘সে খুবই আক্রমণাত্মক ও দুর্দান্ত টেনিস খেলেছে। আজকের দিনে সে স্পষ্টভাবেই আমার চেয়ে ভালো খেলোয়াড় ছিল।’ ফাইনালের আগেই সাবালেঙ্কাকে টপকে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন রিবাকিনা, যার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে বেলারুশিয়ান তারকার টানা ৯৯ সপ্তাহের রাজত্বের। হাসিমুখে তা স্মরণ করে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘দেখা যাক এলেনা আমার এই রেকর্ড ভাঙতে পারে কি না।
তবে সে যদি এভাবে খেলা চালিয়ে যায়, তাহলে সত্যিই আমি বিপদে পড়ব!’ এদিন গ্যালারির দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেলেও তা জয়ে রূপান্তর করতে পারেননি সাবালেঙ্কা। আগের তিনটি ইউএস ওপেন ফাইনালেই আমেরিকান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ায় গ্যালারির সমর্থন তার পক্ষে ছিল না। তবে এবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম পুরোটা সময় ছিল তার পাশে।
তা নিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমার তো মনে হচ্ছিল, ওহ ঈশ্বর, আমি যেন একজন আমেরিকান! খুব ইচ্ছে ছিল ম্যাচটা জিতে এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে।
কিন্তু হ্যাঁ, এ বছর আর তা হলো না।’ এই হারের মাধ্যমে ফ্লাশিং মেডোজে সাবালেঙ্কার টানা ২০ ম্যাচের জয়ের রথ থামল। একই সঙ্গে সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের পর উন্মুক্ত যুগে টানা তিনবার ইউএস ওপেন জেতা তৃতীয় নারী টেনিস তারকা হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হলেন তিনি।