শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ে নামে ঢাকা। ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করেন খুলনার দুই ওপেনার উইলিয়াম বসিস্তো ও নাঈম শেখ।
পরে দুজনেই হাত খুলে খেলার চেষ্টা করছিলেন। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে চতুরঙ্গ ডি সিলভার বলে চড়াও হয়েছিলেন ৩০ রান করা নাঈম। তবে কাভারে দৌড়ে এসে দারুণ ক্যাচ লাইফ নেন শাহাদাত হোসেন দীপু। কয়েকবার রিপ্লে দেখে ক্যাচ নিশ্চিত করে তাকে আউট দেন থার্ড আম্পায়ার। দলীয় ৪৯ রানে খুলনা হারায় তাদের প্রথম উইকেট।
.png)
পরের ওভারে এসেই আফিফ হোসেনকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান শুভম রঞ্জনে। এরপর রিভিউ নিয়েছিলেন আফিফ। তবে থার্ড আম্পায়ার রিপ্লে দেখে তাকে আউট দেন। আল্ট্রা এজে আফিফের ব্যাটের কোনো ছাপ দেখা যায়নি বলে। ফলে তাকে ফিরে যেতে হয়।
ব্যক্তিগত ২ রানে জীবন পেয়েছিলেন ইব্রাহীম জাদরান। ডিপে ফিল্ডিং করা ঢাকার অধিনায়ক থিসারা পেরেরা সেই ক্যাচ নিতে পারেননি। অবশ্য নাজমুল ইসলাম অপু তাকে থিতু হতে দেননি। লেন্থে পড়ে স্কিড করা বল ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বলের লাইন মিস করেন ইব্রাহীম। বল হাতে নিয়েই স্টাম্প ভেঙে দেন লিটন দাস। ফলে ৫ রান করেই ফিরতে হয় তাকে।
এরপর বসিস্তোকে নিয়ে খুলনার হাল ধরতে চেয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মিরাজ আউট হয়েছেন থিসারার শিকার হয়ে শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চলে আবু হায়দারকে ক্যাচ দিয়ে। দলীয় ৭৫ রানেই উপরের সারির ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে খুলনা।
মোহাম্মদ নাওয়াজকে থিতু হতে দেননি আলাউদ্দিন বাবু। বাবুর অফ স্টাম্পের বাইরের বল এক্সট্রা কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন নাওয়াজ। তবে ব্যাটে বলে করতে পারেননি। সীমানায় দারুণ ক্যাচ দিয়েছেন থিসারা পেরেরা। খানিক বাদে উইকেট হারিয়েছেন একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা বসিস্তো। তিনি সিলভার বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছেন শুভম রঞ্জনের হাতে।
সপ্তম উইকেটে ৪৩ রান যোগ করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও জিয়াউর রহমান। জিয়াউর ১৫ বলে ২২ রান করে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে লং অফে ক্যাচ তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। ১৯তম ওভারে উইকেট হারিয়েছেন অঙ্কনও। তিনি আবু জায়েদ রাহীর উপর চড়াও হতে গিয়ে ক্যাচ দেন লং অনে তানজিদ তামিমের হাতে। যদিও আগের বলেই রাহিকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
নাসুম আহমেদ ও আবু হায়দার মিলে দেড়শ পাড় করান খুলনাকে। শেষ ওভারে শুভম রঞ্জনেকে তিন ছক্কা হাঁকান রনি। তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ২১ রান করে। নাসুম অপরাজিত থাকেন ৯ রান করে। তাতেই ১৭৩ রানের পুঁজি পেয়ে যায় খুলনা।